বাড়িরাজ্য'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' নিয়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী

‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ এপ্রিল :  দেশের একাধিক রাজ্যের ভোটের ঠিক আগে বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে সক্রিয় হয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রথমটি ছিল, লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ। এই বিলের নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। ভোটাভুটি চলাকালীন বিলটির পক্ষে ২৯৮ টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০ টি। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় শেষ পর্যন্ত পাশ করানো যায় নি বিলটি। বৃহস্পতিবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধীদের মহিলা বিরোধী বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিল-২০২৩ ভারতের ইতিহাসের একটা বৈপ্লবিক অধ্যায়। এই বিলের মূল উদ্দেশ্যে লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নয়া সংসদ ভবনে বিশেষ অধিবেশনের মধ্যদিয়ে এই বিলটি পাশ করানো হয়। সংবিধানের ১২৮ তম সংশোধনী বিল ছিল এই বিলটি। বিলটি লোকসভা ও রাজ্য সভায় পাশের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে ১০৬ তম সংবিধান সংশোধনী আইন হিসাবে স্বীকৃতি পায়। তার পূর্বে একাধিকবার এই বিলটি পাশ করানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিলটি সেই সময় পাশ হয় নি। অবশেষে ২০২৩ সালে বিলটি পাশ হয়। এই আইনের মেয়াদ কাল দেওয়া হয়েছে ১৫ বছর। পরবর্তী সময় চাইলে এই আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে। ২০২৩ সালে এই বিলটি পাশের পর কিছু ত্রুটি নজরে আসে। তাই ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সংশোধনের পর পুনঃরায় সংশোধনী বিল হিসাবে এই বিলটি সংসদে পেশ করা হয়। কারন এই বিলটি লাগু করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। তাই এই বিলটি সংশোধন করা হয়েছে।

একই সাথে লোক সভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করারও পরিকল্পনা ছিল। পুরুষদের আসন সংখ্যা না কমিয়ে মহিলাদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তাই ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে লোকসভার বিশেষ অধিবেশনে ১৩১ তম সংশোধনী বিল হিসাবে এই বিলটি পেশ করা হয়। কিন্তু ইন্ডিয়া জোট এই বিলটিকে পাশ হতে দেয় নি। ইন্ডিয়া জোট মহিলাদের অপমান করেছে। তিনি আরও বলেন শুধুমাত্র মহিলা নয় সমগ্র জাতিকে বঞ্চিত করেছে ইন্ডিয়া জোট। কারন তারা আত্মকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কংগ্রেস দল দীর্ঘদিন মহিলা বিরোধী অবস্থান বজায় রেখেছে। এই বিল সংসদে পাশ না হওয়ায় দেশের মহিলারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী মুসলিম মহিলাদের প্রতি অবিচার করেছিলেন। এইটা সকলের জানা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তিন তালাক প্রথা নিষিদ্ধ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, বিধায়িকা মিনারানি সরকার, অন্তরা দেব সরকার।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য