স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ এপ্রিল : আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রবিবার ১০ কুলাই চাম্পাহওর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিমল দেববর্মার সমর্থনে আমবাসা মহকুমার অন্তর্গত কাঠালবাড়ি ভিলেজের ফণিন্দ্র কিশোর পাড়া এসবি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এক নির্বাচনী সমাবেশ। এই নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনজাতিদের উন্নয়ন একমাত্র বিজেপি সরকারের শাসনকালেই হচ্ছে। অনেকে বিভিন্নভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তাদেরকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিপ্রা মথাকে এক হাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা মথা দল বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উপর আক্রমণ করছে এবং পরিবেশকে অশান্ত করে তুলছে। তিনি সকলের কাছে আবেদন রাখেন রাজ্যে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার জন্য। কেননা শান্তি ছাড়া কোনভাবেই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যের জনজাতিদের উন্নয়ন শুধু বিজেপি সরকারই করছে। পূর্বতন সরকার গুলি জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য কোন চিন্তা ভাবনা করেননি। তাই এবার এডিসিতে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনজাতিদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে। নির্বাচনী জনসভা থেকে ১০ কুলাই চাম্পাহওর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিমল দেববর্মাকে পদ্মচিহ্নে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিপরা মথা মানুষকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা কথা বলে এবং নাটকের মাধ্যমে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা বলছে এডিসির জমি নাকি নগর পঞ্চায়েত নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এক ইঞ্চি জমিও নগর পঞ্চায়েত থেকে দখল করা হয়নি। এবং রাজ্যে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন এবং এডিসি নির্বাচন নিয়োগ বিভ্রান্ত সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সঠিক সময়ে এডিসি নির্বাচন সম্পন্ন হতে চলেছে। কিন্তু তাঁদের কারণে সঠিক সময়ে ভিলেজ কমিটির নির্বাচন হয়নি।
কিন্তু মিথ্যা কথা বলা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করা ভারতীয় জনতা পার্টি সংস্কৃতি নয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন ত্রিপুরা বর্তমানে সব ক্ষেত্রে যেভাবে উন্নত হচ্ছে তা দেশের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। ফলে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে একটা বিশেষ স্থান দখল করেছে। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এডিসিতে আগেও ভ্রষ্টাচারের সরকার ছিল এবং বর্তমানেও রয়েছে। এখন যখন মানুষ দলে দলে বিজেপিতে যোগদান করছে তখন তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। তাই তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেছে এবং বিভেদ করার রাজনীতি করছে। কিন্তু এগুলি করে লাভ হবে না। পাহাড়ি বাঙালি সহ সকলকে মিলেই থানসা হবে রাজ্যে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনজাতি মোর্চার প্রদেশ সভাপতি পরিমল দেববর্মা, প্রাক্তন সংসদ রেবতী ত্রিপুরা, দলের ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সভায় জনজাতি অংশের মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

