Wednesday, March 11, 2026
বাড়িরাজ্যসুশাসনের নামে জঘন্যভাবে দুঃশাসন কায়েম করেছে পাহাড়ে, আক্রান্ত সমাজের মেরুদন্ড

সুশাসনের নামে জঘন্যভাবে দুঃশাসন কায়েম করেছে পাহাড়ে, আক্রান্ত সমাজের মেরুদন্ড

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক,আগরতলা   ১১ মার্চ : রাজ্যে আইনের শাসন চলছে বলে রাজ্য পুলিশের সদর কার্যালয় থেকে একেবারে মহাকরণ পর্যন্ত দাবী করছেন ত্রিপুরা পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর ও রাজ্য সরকারের অভিভাবক। কিন্তু এই আইনের শাসনের নামে যে কি গুন্ডা শাসন চলছে সেটা স্বচক্ষে না দেখলে হয়তো অনেকে ধারণাও করতে পারবে না। বিশেষ করে পাহাড়ে আইন-কানুন আছে বলে মনে করছে না সাধারণ মানুষ। উচ্ছৃংখলতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এবার একেবারে প্রকাশ্য দিবালোকে এক শিক্ষক ও এক যুবতীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করল একদল উৎশৃঙ্খল যুবক। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে খোয়াই মহকুমার পদ্মবিল ব্লকের অন্তর্গত মুদিবাড়ি এলাকায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা যায়, আক্রান্ত শিক্ষকের নাম বিশ্বজিৎ রায়। তিনি খোয়াই গণকী এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বাচাইবাড়ি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। স্থানীয় সূত্রে খবর বিশ্বজিৎ রায় আগে রতনপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সেই সূত্রেই মুদিবাড়ি এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে মুদিবাড়ি এলাকা থেকে এক যুবতীকে নিজের গাড়িতে তুলে খোয়াইয়ের অভিমুখে আসছিলেন শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায়। মাঝপথে স্থানীয়রা গাড়িটি আটকে দেন। ওই যুবতীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই প্রশ্ন তুলে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অভিযোগ, এর পরেই শিক্ষক ও ওই যুবতীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঠিপেটা করে ও উত্তম-মাধ্যম দেয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাইজালবাড়ি থানার পুলিশ। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে শিক্ষক ও যুবতীকে উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তবে কী কারণে ওই শিক্ষক যুবতীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কেনই বা স্থানীয়রা এত উত্তেজিত হয়ে উঠলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। থানার ওসি জনিয়েছেন কোন অভিযোগ দায়ের করা হয় নি। রাতেই শিক্ষক ও যুবতীকে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনা অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। উশৃংখল যুবকরা কেন এমন ভয়ংকর গুন্ডামি করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সব মহলেই। শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায় যদি অভিযুক্ত হয়েই থাকতেন তাহলে তাকে প্রথমেই স্থানীয়রা পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধর করলেন শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায়কে। একজন শিক্ষককে পিটিয়ে এই গুন্ডাবাহিনী কি সুরসুরি দিতে চাইছে সেটা নিয়ে রহস্য থেকেই যাচ্ছে? যাই হোক আইনের শাসন যদি থাকে তাহলে পুলিশ অবশ্যই ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের গ্রেফতার করে সঠিক আইনের ধারায় আদালতে তুলবে। নাহলে এ ধরনের অরাজকতা দিন দিন সীমাহীন হয়ে দাঁড়াবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য