আগরতলা, ৮ মার্চ (হি.স.) : পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ত্রিপুরাকে দেশ ও দেশবাসীর কাছে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে। উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক বিকাশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। রবিবার ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু সহ অন্যান্যরা।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সূচনায় উপরাষ্ট্রপতি প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু এবং ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপরাষ্ট্রপতি ও অতিথিদের পাগড়ি ও উত্তরীয় পরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এক সময় তাঁর জন্মস্থান চেন্নাই থেকে আগরতলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে উত্তর–পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ত্রিপুরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে আজ দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে এই রাজ্যে যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপরাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আয়তনে ছোট হলেও ত্রিপুরা তার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য সুপরিচিত। এই ঐতিহ্যই রাজ্যের মহানুভবতার পরিচয় বহন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা ত্রিপুরার সামগ্রিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পর্যটন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল গভর্নেন্স এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তিনি রাজ্যের নারীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

