বাড়িরাজ্যবাংলাদেশির তকমা লাগিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা ও সম্পত্তির দাবি, পরে...

বাংলাদেশির তকমা লাগিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা ও সম্পত্তির দাবি, পরে মারধর

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ ফেব্রুয়ারি :  বাংলাদেশি নাগরিক তকমা লাগিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা ও সম্পত্তির দাবি এবং পরবর্তী সময় মারধর করার মতো গুরুতর অভিযোগ। ঘটনা চুরাইবাড়ি থানাধীন ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় দায়ের হয়েছে পাল্টাপাল্টি মামলা। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পূর্ব ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন মনসুর অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মনসুর আলি ওরফে মেখাই নামে এক ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিপত্র দেখতে চান। তাঁরা নিজেদের জেলা শাসকের প্রতিনিধি ও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন।

অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এবং কাগজপত্র দেখাতে অনীহা প্রকাশ করায় শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে জালাল উদ্দিন মনসুর ও  এক মহিলাকে শারীরিক নিগ্রহ করে। জালাল উদ্দিন মনসুরের অভিযোগ, প্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মনসুর আলি ওরফে মেখাই-ই হামলার নেতৃত্ব দেন। ঘটনার পর আহত দুজনকে কদমতলা হাসপাতালে চিকিৎসা করান এবং পরে চুরাইবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জালাল উদ্দিন মনসুর জানান, গত প্রায় দুই মাস ধরে কংগ্রেস দলের কর্মী মনসুর আলি ওরফে মেখাই তাঁকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে মিথ্যা তকমা লাগিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন। অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে নগদ ৪ লক্ষ টাকা অথবা জমি দাবি করা হয়। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে তাঁর কাছে সমস্ত বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথিপত্র রয়েছে। এমনকি তিনি টানা ৯ বছর বুথ প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে বিজেপি দলের একজন সক্রিয় কর্মী। তবুও কীভাবে তাঁকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় ও আতঙ্ক প্রকাশ করেন। তিনি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তাঁর কাগজপত্র যাচাইয়ের কাতর আবেদনও জানান। পাশাপাশি, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন।  অন্যদিকে,জালাল উদ্দিন মনসুরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি অভিযোগ রয়েছে বলে খবর। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পঞ্চায়েত সচিব সরেজমিনে তদন্ত করতে তাঁর বাড়িতে যান। অভিযোগ, সেই সময় পঞ্চায়েত সচিবের সঙ্গে অসহযোগিতা করা হয়। এই ঘটনায় পঞ্চায়েত সচিবের তরফ থেকেও চুরাইবাড়ি থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুটি পৃথক মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। পুলিশের তদন্তেই এই ঘটনায় আসল রহস্য সামনে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য