স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ১৯ ফেব্রুয়ারি : ১০ রাজ্যের ৩৭ আসনে রাজ্যসভার নির্বাচন। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ১৬ মার্চ একযোগে ওই ৩৭ আসনে ভোট হওয়ার কথা। ওই ভোটের পরই বদলে যেতে পারে রাজ্যসভার যাবতীয় অঙ্ক। সংসদের উচ্চকক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার আরও কাছে চলে যেতে পারে বিজেপি। জোট হিসাবে এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন থাকবে না।
বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যসভার আসনগুলিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ, প্রত্যাহারের সময়সীমা ৯ মার্চ, এরপর ১৬ মার্চ হবে ভোটগ্রহণ এবং ওইদিনই বিকেল ৫টায় হবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা। যে ১০ রাজ্যের ৩৭ আসনে নির্বাচন হচ্ছে সেগুলি হল মহারাষ্ট্র (৭), ওড়িশা (৪), তামিলনাড়ু (৬), পশ্চিমবঙ্গ (৫), অসম (৩), বিহার (৫), ছত্তিশগড় (২), হিমাচল(১), তেলেঙ্গানা (২) ও হরিয়ানা (২)।
এই রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্রে ২০২০ সালে বিজেপির চেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল বিরোধী জোট। এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে। অন্তত ৫ আসনে জয় কার্যত নিশ্চিত বিজেপি জোটের। ষষ্ট আসনও জিততে পারে তারা। ওড়িশার ৪ আসনের মধ্যেও বেশিরভাগ জিততে চলেছে বিজেপি। তামিলনাড়ুতে অবশ্য ইন্ডিয়া জোটেরই দাপট থাকবে। বাংলাতেও দাপট থাকবে তৃণমূলের। পাঁচটির মধ্যে চার আসন কার্যত নিশ্চিত রাজ্যের শাসকদলের। অসমেও বিজেপি ৩ আসনের মধ্যে অন্তত দুটি জিততে চলেছে। বিহারে পাঁচ আসনে দাপট থাকবে এনডিএ জোটের। ৪ আসন নিশ্চিত। পঞ্চমটিও দখল করার চেষ্টা করতে পারে গেরুয়া শিবির। ছত্তিশগড় ও হরিয়ানাতেও দাপট থাকবে গেরুয়া শিবিরের। হিমাচল ও তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের দখলে যাবে আসনগুলি।
এখন প্রশ্ন হল, এর ফলে রাজ্যসভার সমীকরণ বদলাবে কী? ২৪৫ আসনের মধ্যে এই মুহূর্তে বিজেপির হাতে রয়েছে ১০৩ জন সাংসদ। এনডিএ’র সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৩৩। যা ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে কিছুটা হলেও বেশি। তবে, এবারের ভোটের পর এই সংখ্যাটা আরও অনেকটাই বাড়বে বলে আশা গেরুয়া শিবিরের। এই ৩৭ আসনের ফলপ্রকাশের পর এনডিএ সার্বিকভাবে ১৪০ আসনে চলে যেতে পারে। আবার বিজেপি একাই ১১০-এর কাছাকাছি চলে যেতে পারে। এ বছরের শেষের দিকে আরও ৩৪ আসনের নির্বাচন হওয়ার কথা। সেসময় বিজেপির সংখ্যাটা বেড়ে ১১৫ পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। সার্বিকভাবে দেড়শো ছুঁয়ে ফেলতে পারে এনডিএ। এদিকে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অবস্থা সংকটজনক। এই মুহূর্তে বিরোধী শিবিরের সাংসদ সংখ্যা ৭৯। এর মধ্যে ২৭টি কংগ্রেসের। তৃণমূলের ১২ এবং বিজেপির ১০ আসন রয়েছে। হিসাব বলছে, এবারের ভোটের পর এই সংখ্যাটা আরও কমে ৭৫-এ নামতে পারে।

