স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ১৯ ফেব্রুয়ারি : রমজান মাসে দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে চাঁদা তুলে জঙ্গিদের অর্থসাহায্য করার পরিকল্পনা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। তা রুখতে উপত্যকায় আবার অভিযানে নামল যৌথ বাহিনী।
গত কয়েক মাস ধরেই জইশ জঙ্গিদের খোঁজে উপত্যকায় সেনা অভিযান চলছে। তাতে বেশ কয়েক জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে খতমও করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি অভিযান চলছে। নিরাপত্তাবাহিনীর অনুমান, কাশ্মীরে এখনও বেশ কয়েক জন জইশ জঙ্গি গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। তারা সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। তার জন্য অর্থসাহায্যের প্রয়োজন। কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া প্রহরায় তা-ও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রমজান মাসকেই নিশানা করেছে জঙ্গিরা।
কিস্তওয়ারের জেলাশাসক পঙ্কজ কুমার শর্মা ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন, বিনা অনুমতিতে কোনও ভাবেই ঘরে ঘরে চাঁদা তোলা যাবে না। সেই মতো জায়গায় জায়গায় নিরাপত্তাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। ফিল্ড অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাঁরা বাড়ি বাড়ি চাঁদা তুলতে যাবেন, তাঁদের সম্পর্কে যেন খোঁজখবর করা হয়। তাঁদের গতিবিধি আদৌ সন্দেহজনক কি না, তা যেন খোঁজ করে দেখা হয়। বিশেষত স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বেশি নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দিয়ে টাকা পাচারচক্রের পর্দাফাঁস করেছে নিরাপত্তা সংস্থা। এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলি আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের অন্যতম ‘অস্ত্র’। মূলত সাইবার প্রতারণার কাজেই এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী, বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিও দেশবিরোধী কার্যকলাপে আর্থিক মদত দেওয়ার জন্যও এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা সংস্থা। গত তিন বছরে জম্মু-কাশ্মীরে এমন ৮০০০ বেনামি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন আধিকারিকেরা। ওই অ্যাকাউন্টগুলি ইতিমধ্যে ফ্রিজও করা হয়েছে। আধিকারিক সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলি সাইবার প্রতারণার জগতে ‘সবচেয়ে দুর্বল, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক’। কারণ এই অ্যাকাউন্টগুলির সাহায্য না নিয়ে অপরাধের টাকাকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বদলে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

