স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ১৬ ফেব্রুয়ারি : সকালে কাজের ব্যস্ততার মাঝেই বড়সড় দুর্ঘটনা। কারখানার ভিতরে একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণের গগনভেদী শব্দ, দাউদাউ আগুন আর আকাশছোঁয়া ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। রাজস্থানের আলওয়ারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে ঝলসে প্রাণ হারালেন অন্তত সাতজন শ্রমিক। জখম আরও অনেকে। মৃতের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। সোমবার বেলার দিকে কুরুক্ষেত্র শিল্পতালুকের একটি রাসায়নিক কারখানায় আগুন নেভাতে ছুটে যায় দমকলের ৬টি ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণ পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। কারখানার সমস্ত সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কীভাবে এত বড় আগুন লাগল, তা এখনও অজানা। ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, কুরুক্ষেত্র শিল্পতালুকের এই রাসায়নিক কারখানাটি কয়েকমাস ধরে বন্ধ ছিল। সেখানে বিপুল পরিমাণ কার্ডবোর্ড স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। সেইসঙ্গে বেশ কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করা ছিল। সম্ভবত সেই সিলিন্ডার ফেটেই আগুন লেগেছে। যদিও তা নিশ্চিত করে এখনই বলেনি দমকল বিভাগ। আরও জানা যাচ্ছে, গোটা কারখানা বন্ধ থাকার ফলে আগুন নেভাতে বেশ সময় লেগেছে। দরজা, জানলা ভেঙে সেই কাজ করতে হয়েছে। দমকলের কাছে তা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ছিল বলে দাবি আধিকারিক রাজু খান। আশপাশের কারখানাগুলিতে সেসময় কাজ করছিলেন অনেকে। আগুনে তাঁদেরও কারও কারও প্রাণ গিয়েছে বলে দাবি। তবে সব মৃতদেহ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাজের ব্যস্ত সময় বন্ধ কারখানা থেকে তিন-চারবার প্রবল শব্দ তাঁদের কানে আসে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে যেমন শব্দ হয়, তেমনই কানফাটানো আওয়াজ ছিল। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে কারখানা থেকেও শ্রমিকদের তড়িঘড়ি সরিয়ে ফেলা হয়। সেইসঙ্গে বড় বিপদ থেকে বাঁচতে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দমকল সূত্রে খবর, বেশ কিছুক্ষণ পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কুলিং প্রসেস চলছে। এই ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছে রাজস্থান সরকার, তা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

