বাড়িরাজ্যঅনাস্থা ভোটের পর শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক গুঞ্জন

অনাস্থা ভোটের পর শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক গুঞ্জন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ অক্টোবর :কদমতলা ব্লকাধীন রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা ভোটের পর শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক গুঞ্জন। কংগ্রেস দলের দাবি, অনাস্থা ভোটে পরাজয়ের পর সিপিআইএম নেতৃত্ব কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কুৎসা রটনা শুরু করেছে। এমনই অভিযোগ তুলেছেন রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কবির হোসেন এবং কদমতলা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মানিক লাল দাস।

জানা গেছে, রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিআইএম -এর প্রধান রেবা দাসের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। অভিযোগ জমা দেওয়া হয় জেলা পঞ্চায়েত আধিকারিকের কাছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে পঞ্চায়েত ভবনে অনুষ্ঠিত হয় অনাস্থা ভোট। ১১ আসনের এই রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান রেবা দাসের পক্ষে পড়ে মাত্র দুটি ভোট, আর অনাস্থার পক্ষে পড়ে নয়টি ভোট। উল্লেখ্য, ওই পঞ্চায়েতের ১১ আসনের মধ্যে সিপিআইএম জয়ী হয় ২ টি, কংগ্রেস ৪ টি এবং বিজেপি ৫ টি আসনে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর সিপিআইএম ও কংগ্রেস জোট বেঁধে “বামগ্রেস” গঠন করে পঞ্চায়েত পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। প্রধান নির্বাচিত হন সিপিআইএম -এর রেবা দাস এবং উপপ্রধান হন কংগ্রেসের কবির হোসেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসে। বিজেপি ও কংগ্রেস— দুই দলের নির্বাচিত সদস্যরাই একযোগে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন।

অনাস্থা ভোটে পরাজয়ের পর সিপিআই(এম) নেতা ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য জহরুল হক সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস দল নাকি ১৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মানিক লাল দাস এবং উপপ্রধান কবির হোসেন বলেন, প্রধান রেবা দাস ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য জহরুল হক পঞ্চায়েত বডিকে অজ্ঞাত রেখে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি প্রতি মাসে পঞ্চায়েত থেকে জহরুল হককে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে দিতে হতো। তারা আরও বলেন, যদি জহরুল হকের অভিযোগ সত্যি হয়, তবে প্রমাণ তুলে ধরতে হবে। নাহলে কংগ্রেস দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, সিপিআইএম দেশব্যাপী ও রাজ্য পর্যায়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হতে না পেরে বিভ্রান্তিকর প্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তাদের দাবি, কদমতলা–কুর্তি বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিআইএম -এর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও ধরনের জোট বা সমঝোতা নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজনগর পঞ্চায়েতের এই অনাস্থা পর্বকে ঘিরে কংগ্রেস ও সিপিআইএম -এর সংঘাত ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসক শিবিরের জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনতে পারে। আবার অনেকে মনে করছে এটা কংগ্রেস এবং সিপিআইএমের অন্যতম কৌশল। যা জনগণ এবং শাসক দলকে টুপি পড়ানোর মতো।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য