স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ অক্টোবর : দুর্গাপূজা থেকে শুরু করে কালিপূজা পর্যন্ত প্রতিবছর চাঁদার অভিযোগ ঘিরে বদনাম কামায় সরকার। দুর্গাপূজার আগে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা কড়া হুশিয়ারি দিয়েছিলেন বিভিন্ন পূজা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া হুঁশিয়ারি কতটা কাজে আসছে সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গাপূজা এবং কালী পূজার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকার বাজেট করে আকর্ষণীয় পুজো প্যান্ডেল করছে বলে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসে দাবি করছে। অথচ সেই অর্থরাশি কোথা থেকে আসছে তার কোন উল্লেখ নেই।
সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এবং গাড়ি চালকদের কাছ থেকে মোটা অংক চাঁদা আদায় করে পূজার উদ্যোগ গ্রহণ করে তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোন অর্থ রাশির মধ্যে পূজা করার নির্দেশ না থাকায় নিজ খেয়াল খুশি মতই চলছে সবকিছু। এবার চাহিদা মতো চাঁদা না দেওয়ায় লরি থেকে পণ্য নামিয়ে ফেলে কালী পূজার উদ্যোক্তারা। ঘটনা ধলাই জেলার মাছলি এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে মনু থানার পুলিশ। লরি চালক জানান, স্থানীয় একটি ক্লাবের পক্ষ থেকে উনার কাছে ২০০০ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। তিনি বলেছিলেন ৩০০ টাকা দেবেন। তারপরই উনার গাড়ি থেকে পণ্য নামিয়ে ফেলে দেয় এবং গাড়িতে তান্ডব চালায় চাঁদা গ্রহণকারীরা। পরবর্তী সময় পুলিশের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তারপর লরি চালক রওনা হয় নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে উদ্দেশ্যে।
তবে এই চাঁদা নিয়ে লরি চালকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। কারণ, চোরাইবাড়ি থেকে সাব্রুম পর্যন্ত বিভিন্ন পূজা উদ্যোক্তাদের মোটা অংক চাঁদা দিয়ে তাদের অবস্থা কাহিল। উল্লেখ্য, প্রতিবছর এভাবে চাঁদা দিয়ে মোটা অংক কামাই করে নিজেদের পকেট ভরছে একাংশ পূজা উদ্যোক্তারা। নিজেদের বাড়িঘর ব্যাংক ব্যালেন্স সবকিছুতেই এই সুশাসনের ছোঁয়া। এর জন্য নেই কোন ইডি এবং সিবিআই। আর এই বিষয়ে অবগত রয়েছে সরকার।

