স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ অক্টোবর : দুর্গাপূজার আগে রেগা এবং টুয়েপের কাজ দেওয়া হয়নি। যার কারণে রাজ্যের গরিব অংশের মানুষের দুর্গা পূজার আনন্দে ভাটা পড়েছে। একই সাথে এবার দুর্গা পূজায় লক্ষ করা গেছে চাঁদার জুলুম বাজি অতিরিক্ত ভাবে হয়েছিল। প্রশাসনের কোনরকম নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এক প্রকার ভাবে মানুষের উপর আর্থিক বোঝা নামিয়ে এনেছে বর্তমান সরকার। রবিবার সিপিআইএম রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বামফ্রন্টের নেতৃত্ব তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, সারা রাজ্যে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দুর্নীতি চলছে। এডিসি এলাকায় যা অর্থ উন্নয়নের জন্য আসছে সেটা নিজেদের মধ্যেই ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। আর এইগুলি নিয়ে যখন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধীদল অভিযোগ তুলছে, তখন শাসক দল সহ্য করতে পারছে না। তাই এই শাসক দল বিজেপি অমরপুর, খোয়াই এবং জিরানিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী দল সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয় ভেঙে দিচ্ছে। এগুলো নিয়ে মামলা করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করছে না। এর দ্বারা বুঝা যায় গণতন্ত্রের মুখোশ থাকলেও গণতন্ত্র নেই। এটাই নয়া ফ্যাসিবাদের দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি আরো বলেন, একদিকে প্রধান শাসকদল বিজেপি সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিচ্ছে, অপরদিকে মথা জাতি জনজাতির মধ্যে ঐক্য নষ্ট করতে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছে। অপরদিকে আমরা বাঙালিও উস্কানিমূলক ভাবে কর্মসূচি পালন করছে। এগুলির জাতি জনজাতির ঐতিহ্য নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি। এদিকে কদমতলা ব্লকের অধীন কালাগাঙের পাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে গত জুন মাসে নোটিফিকেশন জারি করে প্রধান এবং উপপ্রধানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের প্রধান উপপ্রধান দুজনেই সিপিআইএম থেকে জয়ী হয়েছে।
কিন্তু তাদের কাজ করতে দিচ্ছে না পঞ্চায়েত দপ্তর। এ বিষয়ে দপ্তরের সচিবের সাথে কথা বলেছেন বিরোধী দল নেতা। অথচ এতদিন হয়ে গেল কোনরকম গ্যাজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয় নি। যার ফলে গত জুন মাস থেকে এলাকায় কোনরকম উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। তিনি আরো অভিযোগ তুলে বলেন, শনিবার দুপুরে সহধর্মিনীকে নিয়ে জিরানিয়ায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় মহকুমা শাসক কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় জাতীয় সড়কের মধ্যে দুটি গাড়িতে উনার রাস্তা আটকে দেয়। পরবর্তী সময় যানজট সৃষ্টি হলে তিনি অনুষ্ঠানে না গিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। সেখানে যারা বাধা দিয়েছিলেন তারা সকলেই স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রীর কাছের লোক। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার ৩০ বছরের বিধায়ক এবং ১৫ বছরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সাল থেকে তিনি কাজ করে আসছেন বামফ্রন্টের ছাত্র সংগঠনের হয়ে। ১৯৭৯ সালে স্থানীয় এলাকার গ্রাম প্রধান ছিলেন তিনি। সুতরাং এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিষয়টি পরবর্তী সময়ে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশককে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাপ্তন মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

