Thursday, February 5, 2026
বাড়িবিশ্ব সংবাদযুদ্ধজয় পূর্তির কুচকাওয়াজে বিশ্ব ব্যবস্থা নিয়ে চীনা অভিলাষ দেখাতে চান শি

যুদ্ধজয় পূর্তির কুচকাওয়াজে বিশ্ব ব্যবস্থা নিয়ে চীনা অভিলাষ দেখাতে চান শি

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২ সেপ্টেম্বর।। ভূ-রাজনৈতিক চরম অনিশ্চয়তার এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থার অভিভাবক হিসেবে বেইজিংকে দেখতে চাওয়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি সপ্তাহে তার দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করতে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ৮০ বছর উদ্‌যাপনে বুধবার তার ‘বিজয় দিবসের’ আয়োজনে অংশ নিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থেকে শুরু করে বিচ্ছিন্নপ্রায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনসহ ২০ জনের বেশি বিশ্বনেতা বেইজিংয়ে জড়ো হচ্ছেন।

সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত এ প্রদর্শনীর লক্ষ্যই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়ে সন্দেহের মধ্যে চীনের সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক দক্ষতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা, লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এটা এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা সমানে কমাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং শত্রু-মিত্র সবার ওপর শুল্কযুদ্ধের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। পুতিন ও কিমসহ বিশ্বনেতাদের পাশে নিয়ে কুচকাওয়াজে শি-র নজিরবিহীন এ উপস্থিতির মধ্যেই চীন তাদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে ড্রোনের মতো সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি দেখাবে, তুলে ধরবে পশ্চিমাদের চ্যালেঞ্জ জানানো ‘নতুন বিন্যাসের অক্ষের’ শক্তি। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মঙ্গলবার ভোরেই নিজের বিশেষ ট্রেনে চেপে চীনে ঢুকেছেন কিম। এটা হতে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়ার এ শীর্ষ নেতার প্রথম কোনো অনুষ্ঠান, যেখানে ডজনের বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত থাকছেন। ৬৬ বছরের মধ্যে চীনের কোনো সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া প্রথম উত্তর কোরীয় নেতাও হতে যাচ্ছেন তিনি। “ভ্লাদিমির পুতিন, (ইরানের) মাসুদ পেজেশকিয়ান ও কিম জং উনের উপস্থিতি বিশ্বের শীর্ষ কর্তৃত্ববাদী শক্তি হিসেবে চীনের ভূমিকাকে ফুটিয়ে তোলে,” বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর চায়না অ্যানালিসিসের চীনা রাজনীতি বিশেষজ্ঞ নিল থমাস। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের কুচকাওয়াজের তুলনায় এবারের অনুষ্ঠানে মধ্য, পশ্চিম ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বেশি নেতার উপস্থিত থাকার কথা, যা বোঝাচ্ছে আঞ্চলিক কূটনীতিতেও বেইজিং বেশ ভালোই অগ্রসর হয়েছে। বুধবারের আয়োজন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। অনুষ্ঠানে দুই পশ্চিমা নেতাও থাকছেন। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এবং সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। এ দুজনই ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচক।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর চলতি জুনে ট্রাম্পও একটি সামরিক কুচকাওয়াজ করেছিলেন, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছে। মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট নিয়মিতই শি, পুতিন ও কিমের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে বলে দাবি করে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো কূটনৈতিক ‘ব্রেক থ্রু’ তিনি আনতে পারেননি। সোমবার চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে শেষ হওয়া দুইদিনের সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে জড়ো হওয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতাদেরকে শি আরও সাম্য, বহুমেরুর বিশ্বের পক্ষে অবস্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘সঠিক ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি’ তুলে ধরতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। চীন-রাশিয়া মনে করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমাদের যে ভাষ্য, তাতে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের অবদানকে খাটো করে দেখানো হয়েছে। বেইজিং ও মস্কো এখন ওই ভাষ্যের বিপরীতে বিকল্প এক ইতিহাস হাজির করতে চায়, চীনের কুচকাওয়াজও সেই ‘স্মৃতি যুদ্ধেরই’ অংশ বলে কয়েকদিন আগে এক নিবন্ধে এমনটাই বলেছে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন। এই যুদ্ধকে শি ‘চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণের’ একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে হাজির করতে চাইছেন, যেখানে জাপানের আগ্রাসন মোকাবেলা করে চীন একটি অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক মহাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। কুচকাওয়াজের আগে অনেক জায়গায় বাসিন্দাদের মধ্যে দেশপ্রেমমূলক ও সামরিক থিমের চুল কাটার চাহিদা বাড়লেও সব সাধারণ চীনা নাগরিকদের মধ্যে এমন উদ্দীপনা নাও থাকতে পারে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে কুচকাওয়াজের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বেইজিংয়ের আশপাশ কার্যত অচল হয়ে আছে। কুচকাওয়াজের আগে সম্ভাব্য যে কোনো অস্থিরতার লক্ষণ পর্যবেক্ষণে দেশজুড়ে স্থানীয় প্রশাসনগুলো লাখো স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের মোতায়েন করেছে বলে অনলাইনে দেখা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অনুমান করা হচ্ছে। সোমবার তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের অনুমান বুধবারের কুচকাওয়াজ ঘিরে চীন ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় করছে, যা তাদের পুরো প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২%। বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধান ও প্রশ্নোত্তরের চীনা অ্যাপ ঝিহুতে জুলাইয়ের এক পোস্টে ব্যবহারকারীদের কাছে সামরিক কুচকাওয়াজ থেকে তাদের প্রত্যাশা কী তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। এর জবাবে এক ব্যবহারকারী লিখেছিলেন, “আমি আশা করছি তারা কম অর্থ খরচ করবে এবং তা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহার করবে।” এটি ভাইরাল হলেও পরে প্রতিক্রিয়াটি মুছে ফেলা হয়। অন্যরা সরকারের কাছে কুচকাওয়াজের দিনটি ছুটি ঘোষণার দাবি জানালেও চীন তাতে কর্ণপাত করেনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য