Friday, February 6, 2026
বাড়িবিশ্ব সংবাদএইচ-১বি ভিসা-গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় রদবদলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

এইচ-১বি ভিসা-গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় রদবদলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২৮ আগস্ট।। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ড কর্মসূচিতে বড় ধরনের রদবদলের আভাস দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা লাখো বিদেশি শ্রমিক ও শিক্ষার্থীর ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক অনলাইনে এক পোস্টে বলেছেন, “বর্তমান এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থা আসলে এক ধরনের ‘প্রতারণা’। এতে বিদেশিরা মার্কিনিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে নিচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান কমে যাচেছ। “সব বড় বড় মার্কিন সংস্থাগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এখন মার্কিনিদের কাজে নিয়োগ করার সময়। সেকারণে, এইচ-১বি ভিসার নিয়মে বদল আসতে চলেছে।” ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এইচ-১বি ভিসা এবং গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। কারণ, মার্কিন নাগরিক এবং গ্রিন কার্ডধারীদের মধ্যে গড় বেতনেও বৈষম্য আছে। নিয়ম বদলের প্রক্রিয়ায় তিনি জড়িত বলেও জানান লুটনিক। তিনি জানান, “গড়ে মার্কিনিরা বছরে ৭৫ হাজার ডলার আয় করে, আর গ্রিন কার্ডধারীদের আয় ৬৬ হাজার ডলার। অর্থাৎ, আমরা আয়ের নিম্ন চতুর্থাংশ নিচ্ছি। কেন তা করব? ট্রাম্প সেটিই বদলাবেন। ‘গোল্ড কার্ড’ আসছে। সেরা মানুষদেরই আমরা আমেরিকায় আনব,” বলেন লুটনিক। ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে আছে- এইচ১বি দেওয়ার জন্য লটারি ব্যবস্থা বাতিল করা এবং মজুরিভিত্তিক ভিসা চালু, যেখানে বেশি আয়ের আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এর আগে একটি খসড়া নীতিও অনুমোদন করেছে। এনডিটিভি জানায়, এই ভিসা রদবদলের পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় কর্মী ও শিক্ষার্থীদের ওপর। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশই তাদের হাতে যাচ্ছে। ট্রাম্প জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদেশি শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মকানুন আরও কঠোর হয়েছে। তার মধ্যেই নতুন নিয়ম করা হচ্ছে। এ বছর নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা দপ্তরের ওম্বাডসম্যান কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা অভিবাসীদের নানা জটিলতায় সহায়তা দিত। আগের নিয়মের পরিবর্তে এখন থেকে এইচ-১বি ভিসাধারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন বায়োমেট্রিক ডেটা ও বাড়ির ঠিকানা জমা দেওয়াও প্রয়োজন পড়বে। ওদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য— “গ্রিন কার্ড মানেই যে কেউ আজীবন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না”— অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। আর ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন “গোল্ড কার্ড” প্রকল্পকে গ্রিন কার্ড এর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য