স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
২৬ অক্টোবর : মাথাব্যথার কারণ হতে পারে মাইগ্রেন, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা
শরীরে জলের ঘাটতি। তবে কিছু উপসর্গ অবহেলা করলে বিপদ বাড়তে পারে, সতর্ক করছেন স্নায়ুরোগ
বিশেষজ্ঞ।
মাথাব্যথা অত্যন্ত পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যা। কখনও সামান্য ক্লান্তি, ঘুমের অভাব
বা শরীরে জলের ঘাটতির কারণে মাথা ধরে, আবার কখনও মাইগ্রেন কিংবা অন্য কোনও শারীরিক
সমস্যার লক্ষণ হিসেবেও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
বা এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের শারীরিক সমস্যার কারণ জানার চেষ্টা করেন।
কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, মাথাব্যথার মতো উপসর্গের ক্ষেত্রে শুধু চ্যাটবটের পরামর্শের
উপর নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে।
The Week-এ প্রকাশিত এক
প্রতিবেদনে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. পি. এন. রেনজেন জানিয়েছেন, মাথাব্যথার কারণ নির্ধারণ
করতে হলে তার ধরন, তীব্রতা, কত দিন ধরে হচ্ছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও উপসর্গ রয়েছে
কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু মাথাব্যথা হলেই ব্রেন টিউমার হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার
কারণ নেই। তবে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মাথাব্যথার নেপথ্যে কী
কী কারণ থাকতে পারে?
মাথাব্যথার পিছনে একাধিক
কারণ থাকতে পারে। মাইগ্রেন, মানসিক চাপজনিত মাথাব্যথা, শরীরে জলের ঘাটতি, পর্যাপ্ত
ঘুমের অভাব এবং সাইনাসের সমস্যার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে মাথার একদিকে
ব্যথা হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে মাথার চারপাশে চাপ অনুভূত হয়। একই ব্যক্তিরও বিভিন্ন
সময়ে মাথাব্যথার ধরন বদলাতে পারে।
অন্যদিকে, বিরল ক্ষেত্রে
মস্তিষ্কের টিউমার বা মাথার খুলির ভিতরে চাপ বেড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যার কারণেও
মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কে টিউমার তৈরি হলে তা আশপাশের মস্তিষ্কের টিস্যুতে
প্রভাব ফেলতে পারে কিংবা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের
স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে মাথার ভিতরে চাপ বাড়তে পারে।
তবে মাথাব্যথা হলেই টিউমার
হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। একইভাবে, অনলাইনে কোনও চ্যাটবট গুরুতর রোগের
সম্ভাবনার কথা বললেই সেটিকে নিশ্চিত রোগনির্ণয় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
কোন ধরনের মাথাব্যথা অবহেলা
করা উচিত নয়?
চিকিৎসকদের মতে, মাথাব্যথার
ধরন ও তার পরিবর্তন অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। কয়েকটি লক্ষণ বিশেষভাবে সতর্ক
হওয়ার দাবি রাখে।
ক্রমশ বাড়তে থাকা মাথাব্যথা:
কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে মাথাব্যথার তীব্রতা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়া প্রয়োজন।
আগের থেকে আলাদা ধরনের
ব্যথা: আগে যে ধরনের মাথাব্যথা হতো, তার তুলনায় নতুন ধরনের ব্যথা দেখা দিলে কিংবা ব্যথার
ধরন ও তীব্রতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে তা পরীক্ষা করা জরুরি।
কাশি, হাঁচি বা ঝুঁকলে
ব্যথা বৃদ্ধি: কাশি, হাঁচি, চাপ প্রয়োগ বা সামনের দিকে ঝুঁকলে মাথাব্যথা বেড়ে গেলে
চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে মাথার ভিতরে চাপ বৃদ্ধির সম্পর্ক
থাকতে পারে। তবে এই উপসর্গ থাকলেই মস্তিষ্কে টিউমার রয়েছে, এমন নয়।
বারবার বমি: অন্য কোনও
স্পষ্ট কারণ ছাড়া বারবার বমি হওয়ার সঙ্গে মাথাব্যথা থাকলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
দৃষ্টিশক্তি বা স্নায়বিক
সমস্যা: মাথাব্যথার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, কথা বলতে অসুবিধা, শরীরের কোনও অংশে
দুর্বলতা, ভারসাম্যহীনতা কিংবা নতুন করে খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
হঠাৎ অসহ্য মাথাব্যথা:
আচমকা অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে, বিশেষ করে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যে
ব্যথা চরমে পৌঁছলে, তা জরুরি চিকিৎসার সংকেত হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
মাথাব্যথা দীর্ঘস্থায়ী
হলে, ক্রমশ বাড়তে থাকলে কিংবা স্বাভাবিক মাথাব্যথার তুলনায় আলাদা মনে হলে চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া উচিত। মাথাব্যথার সঙ্গে নতুন কোনও উপসর্গ দেখা দিলেও দেরি করা ঠিক নয়।
যাঁদের আগে ক্যানসার হয়েছে,
প্রবীণ ব্যক্তি এবং যাঁদের অন্যান্য গুরুতর শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে
নতুন ধরনের মাথাব্যথা দেখা দিলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
মাথাব্যথার কারণ নির্ণয়ে
চিকিৎসক রোগীর পূর্ববর্তী রোগের ইতিহাস, বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ, ব্যথা কখন শুরু হয়,
কতক্ষণ স্থায়ী হয় এবং কী কারণে বাড়ে বা কমে—এসব বিষয় জানতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী
শারীরিক ও স্নায়বিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষার পরামর্শও দেওয়া হতে পারে।
মাথাব্যথা কখন হচ্ছে, কত
ঘন ঘন হচ্ছে এবং তার সঙ্গে কী কী উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তা লিখে রাখলে রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসককে
সাহায্য করতে পারে।
মাথাব্যথা নিয়ে এআই চ্যাটবটের
উপর কতটা ভরসা করবেন?
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য
জানতে, চিকিৎসার পরিভাষা বুঝতে কিংবা চিকিৎসকের কাছে কী কী প্রশ্ন করা উচিত, তা ঠিক
করতে এআই চ্যাটবট সহায়ক হতে পারে। কিন্তু কোনও উপসর্গের সঠিক কারণ নির্ধারণ করা কিংবা
গুরুতর রোগ নেই বলে নিশ্চিত করার ক্ষমতা চ্যাটবটের নেই।
অনলাইনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে
নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে
মাথাব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, ক্রমশ বাড়লে কিংবা নতুন স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি
চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাব্যথা
নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার যেমন প্রয়োজন নেই, তেমনই সব ব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা
করাও ঠিক নয়। উপসর্গের ধরন বুঝে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জরুরি সতর্কতা: হঠাৎ অসহ্য
মাথাব্যথা, নতুন করে খিঁচুনি, শরীরের একদিকে দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তির
মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সাহায্য নিন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান