স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৩ আগস্ট :নামে প্রধান রেফারেল হাসপাতাল। কিন্তু পরিষেবা নিতে গেলে নাম গোত্রহীনদের পকেট গোজা দিতে গিয়ে রোগীর পরিবার পরিজনদের হাজার হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। কারণ এতটাই দুর্বল সিস্টেম হাসপাতালের ভেতর চালু রয়েছে যা দিয়ে পরিষেবা নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় রোগীর পরিবার-পরিজনদের।
যার মধ্যে অন্যতম হলো নাম গোত্রহীন স্পেশাল নার্স। তারা তথাকথিত ডিগ্রিহীন নার্স। তাদের বিষয়ে অবগত রয়েছেন হাসপাতালে নিচু মহল থেকে উপর মহল সকলে। অথচ চিকিৎসকদের কাছে তাদের অন্যতম পরিচয় হলো তারা রোগী পরিবারের লোক। হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলে তাদের ছাড়া উদ্ধার নেই রোগীর পরিবার পরিজনের। প্রতিদিন তাদের না রাখলে হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে অনেকটাই হিমশিম খেতে হবে। এমনটাই জানেন হাসপাতালে আসা রোগীর পরিবার পরিজন। তথাকথিত এই নার্সদের কাজ হলো রোগীর দিকে তাদের নজর রাখা।
প্রতিবেলায় পাঁচশ টাকা করে তাদের দিতে হয় প্রত্যেক রোগীর পরিবারের। এবার তাদের মধ্যেই শুরু হয়েছে কমিশন বাণিজ্য। এই কমিশন বাণিজ্য নিয়ে বুধবার দেখা দিল ঝামেলা। হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন হাসপাতালের কয়েকজন স্পেশাল নার্স। স্থানীয়রা তাদের চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে গিয়ে জানতে পারে তাদের মধ্যে সোমা নামে একজন রয়েছেন। তিনি নতুন করে সংগঠন বানানোর চেষ্টা করছেন হাসপাতালে মেডিসিন ব্লক সহ অন্যান্য ওয়ার্ড গুলির মধ্যে। অন্যান্য স্পেশাল নার্সরা যখন রোগীর পরিবারের কাছ থেকে দায়িত্ব নেবে তখন ৫০০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কমিশন দিতে হবে সোমা ম্যাডামকে। না হলে সোমা ম্যাডাম অন্যান্য স্পেশাল নার্সদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে আগামীকাল থেকে আর কাজ করতে পারবে না হাসপাতালে।
গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ওয়ার্ড গুলির মধ্যে তাদের মধ্যে ঝামেলা চলছে। বুধবার ঝামেলায় তীব্র আকার ধারণ করে সোমা ম্যাডামের সাথে চন্দনা সরকার এবং হিরন সাহা নামে দুই স্পেশাল নার্সের। তারা সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কমিশন বাণিজ্যের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, প্রতিমাসে পনেরো হাজার টাকা কামাই করলে তার থেকে তিন হাজার টাকা তাদের সোমা ম্যাডামকে দিতে হয়। সোমা ম্যাডামের বাড়ি বনিক্য চৌমুহনি এলাকায়। হিরন এবং চন্দনা ম্যাডামের বাড়ি বিবেকানন্দ আবাসনে। তবে হাসপাতালে যে এক প্রকার ভাবে পকেট ভারি করার নাম গোত্রহীন বিভিন্ন কায়দা রয়েছে সেটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। একদিকে সরকারি হাসপাতাল, বিভিন্ন মহকুমা থেকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয় রোগীদের। ১২ মাস হাসপাতালের মধ্যে রোগীর ভীড় থাকে। বহু গরিব রোগী রয়েছে যারা জিবি হাসপাতালে সরকারি হাসপাতাল ভেবে আসেন পরিষেবা নেওয়ার জন্য। কিন্তু রোগী যদি ১০ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকে তাহলে রোগীর পরিবারকে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। শুধু তাই নয় আরো কত জায়গায় বকশিস না দিলে জিবি হাসপাতালে পরিষেবা নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে রোগীর। এভাবেই চলছে গর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান