Saturday, February 7, 2026
বাড়িরাজ্যডাকাতির কাণ্ডে জড়িত চারজনকে পুলিশে হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

ডাকাতির কাণ্ডে জড়িত চারজনকে পুলিশে হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৭ আগস্ট :সোনামুড়া মহকুমায় মঙ্গলবার রাতের দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা রাজ্যের আরক্ষা প্রশাসনের সক্রিয়তা নিয়ে বড় সড় প্রশ্ন তুলে দেয়। সোনামুড়া মহকুমার মেলাঘরের কলমখেত গ্রানতলী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা শান্তি রঞ্জন দাস, বয়স ৮০ বছর। ওনার সহ ধর্মিণীর নাম নমিতা দাস, বয়স ৭০ বছর। তাদের তিন সন্তান। তিন সন্তানের মধ্যে এক ছেলে টিএসআর বাহিনীতে রয়েছে। অপর দুই ছেলে কর্মসূত্রে আগরতলাতে থাকে। মঙ্গলবার রাতে শান্তি রঞ্জন দাসের বাড়িতে হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাত দল।

ডাকাত দলের সদস্যরা শান্তি রঞ্জন দাসের বাড়িতে হানা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে শান্তি রঞ্জন দাসের হাত-পা বেধে ফেলে। এবং তাকে পিটিয়ে খুন করে। তারপর মৃত শান্তি রঞ্জন দাসের স্ত্রী নমিতা দাসের গলার চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। নমিতা দাস ডাকাত দলকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে নমিতা দাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তখন নমিতা দাস জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগে ডাকাত দলের সদস্যরা নমিতা দাসের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানে থাকা কানের দুল সহ ঘর থেকে সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময় নমিতা দাসের জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানান। প্রতিবেশীরা নমিতা দাসকে উদ্ধার করে মেলাঘর হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সোনামুড়া থানার পুলিশ হাসপাতালে ছুটে যায়। আহত নমিতা দাস পুলিশকে জানিয়েছে রাত্রি বেলা ১০ থেকে ১২ জন লোক তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তাদের উপর আক্রমণ করেছে। অভিযুক্তদের হাতে ধারালো ছুরি ছিল।

বাড়ির মালিক শান্তি রঞ্জন দাসকে হত্যা করা হয়েছে। আহত নমিতা দাসের বয়ান থেকে জানতে পেরেছেন অভিযুক্তদের মধ্যে কাঠালিয়া এলাকার তিন জন রয়েছে। সেই তিন জনের নাম নমিতা দাস পুলিশকে জানিয়েছে। মেলাঘর হাসপাতাল থেকে নমিতা দাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করে দেওয়া হয় জিবি হাসপাতালে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোনামুড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যথারীতি পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ চার জনকে গ্রেপ্তার করে। সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব সূত্রধর জানান শান্তি রঞ্জন দেবনাথকে হত্যা ও ওনার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ রিমান্ডের আর্জি জানিয়ে ধৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি কলমক্ষেত এলাকায় পুলিসি টহলদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদালত এইদিন ধৃত চার অভিযুক্তকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেয়। জানা যায় ধৃতরা হল কাঁঠালিয়া মুড়ার দুলাল মিয়া, আরিফ মিয়া, সুজন মিয়া এবং রুবেল মিয়া। রুবেল মিয়ার বাড়ি গোমতী জেলার অমরপুরে। তবে কি ডাকাতির উদ্দেশ্যে, নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা শান্তিরঞ্জন দাসের বাড়িতে গিয়েছিল এবং শান্তি রাঞ্জন দাসকে হত্যা করেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও পুলিশ ঘটনার তদন্ত জারী রেখেছে। এখন দেখার বিষয় পুলিশের তদন্তে কি তথ্য বের হয়। পাশাপাশি দেখার পুলিশ বাকি অভিযুক্তদের জালে তুলতে পারে কিনা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য