স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১ ফেব্রুয়ারি : নিতিশ দল বদলেছে বলে ইন্ডিয়া জোট শেষ হয়ে যায়নি। ২৮ টি দল নিয়ে ইন্ডিয়া জোট হয়েছে। আরো বিভিন্ন দল এনডিএ -কে উপেক্ষা করে ইন্ডিয়া জোটে আসতে পারে। তাই একদিকে বিজেপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার লড়াই, অপর দিকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি’কে পরাস্ত করার লড়াই করতে হবে। বৃহস্পতিবার আগরতলা টাউন হলে মহামতি লেনিনের মৃত্যু শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত হল সভায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে এমনটাই বলেন পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার।
তিনি এদিন আয়োজিত হল সভায় বক্তব্য রেখে বলেন, দেশে সরকার চালাচ্ছে আরএসএস নিয়ন্ত্রিত বিজেপি। এর আগে দেশে সরকার পরিচালনা করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসেরও চরিত্র পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু বিজেপি -র ভাবনা চিন্তার মধ্যে ফ্যাসিস্ট সুলভ চিন্তা ধারা রয়েছে সেটা প্রকাশ্যে এসেছে জনগণের। এটা তারা আর গোপন রাখেনি। তাই বিজেপিকে মতাদর্শগত ও শ্রেণীর চেতনার দিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। অবিজেপি দলগুলি নিয়ে সঙ্গবদ্ধ মঞ্চ তৈরি হয়েছে দেশে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়া জোট। ইন্ডিয়া জোটে কনভেনার করার জন্য বৈঠকে নীতিশের নাম উত্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময় কিছু নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় নীতিশের সঙ্গে কথা বলে কনভেনার তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখের জন্য জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নাম প্রস্তাবিত হয়।
শেষ পর্যন্ত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সেটা পরবর্তী সময় ভেবে দেখা হবে। চূড়ান্ত হয় আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝির মধ্যে রাজ্যগুলিতে আলোচনা করে প্রার্থী কারা হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আর এমন সময় নীতিশ দল-অদল বদল করে নবমবারের মত মুখ্যমন্ত্রী হলেন। ইন্ডিয়া জোটে নিতিশের ভূমিকা নিয়ে মানিক সরকার আরো বলেন, পাটনাতে যখন ইন্ডিয়া জোটের প্রথম বৈঠক করার জন্য পরিকল্পনা চলছিল তখন নিতিশ সেই বৈঠকে বাধা দেয়। এখন বোঝা যাচ্ছে নিতিশের মাথায় আগে থেকেই দল অদল বদলের বিষয়টি কাজ করছিল। এতে নীতিশের রূপ উদম হয়েছে। এর জন্য কমিউনিস্ট কর্মী সমর্থকদের হতাশ হলে চলবে না। আরো বহু দল রয়েছে যারা আগামী দিন এন ডি এ -কে উপেক্ষা করে ইন্ডিয়া জোটকে সমর্থন করতে পারে। তাই জনগণ থেকে বিজেপিকে বিচ্ছিন্ন করা এবং লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে লড়াই করতে হবে। এর জন্য পিছুটানের কোন সুযোগ নেই। জনগণের সংগ্রাম ও চিন্তা চেতনার উপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে হবে বলে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন পলিটব্যুরোর সদস্য। আয়োজিত হলসভায় দলের রাজ্যস্তরের অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

