আগরতলা,
৬ নভেম্বর
(হি.স.)
: আসন্ন পুরও নগর সংস্থা নির্বাচনকে অবাধ,
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিতে আরও গতি আনল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মোট ২৩ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। এর মধ্যে আগরতলা পুর নিগমের নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে তিনজন পর্যবেক্ষক। শুক্রবার থেকেই প্রত্যেক পর্যবেক্ষক নিজ নিজ নির্ধারিত কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর এবার নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলির উপর নজরদারি শুরু করতে চলেছে কমিশন।
শুক্রবার ২৩ জন নিযুক্ত পর্যবেক্ষককে নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ডঃ পিকে চক্রবর্তী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন-সহ কমিশনের অন্যান্য আধিকারিকরা। বৈঠকে পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব,
কর্তব্য এবং নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি না থাকে,
সে বিষয়ে পর্যবেক্ষকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ডঃ পিকে চক্রবর্তী জানান,
নিযুক্ত ২৩ জন পর্যবেক্ষক শুক্রবার থেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। শনিবার থেকে শুরু হবে মনোনয়নপত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার উপর পর্যবেক্ষকরা নজর রাখবেন এবং সংশ্লিষ্ট কাজের অগ্রগতি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দেবেন।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানান,
নির্বাচন সংক্রান্ত মোট পাঁচ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট পর্যবেক্ষকদের নিয়মিতভাবে কমিশনের কাছে পাঠাতে হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা,
প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করার ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিষয়গুলিই এদিনের বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে,
আগরতলা পুর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য তিনজন পর্যবেক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকেই তাঁরাও নির্ধারিত এলাকায় কাজ শুরু করবেন। প্রথম পর্যায়ে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজের উপর নজরদারি চালানোর পর পর্যবেক্ষকরা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। ভোটকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো,
নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখে তাঁরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাবেন।
উল্লেখ্য,
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনকে ঘিরে এখন শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্রের পরিকাঠামো ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এবার বাড়তি গুরুত্ব দিতে চলেছে কমিশন। ২৩ জন পর্যবেক্ষকের নিয়োগ এবং তাঁদের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন পরিচালনায় নজরদারি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আসন্ন পুর ও নগর ভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের তৎপরতাও ক্রমশ বাড়ছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান