স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩০ অক্টোবর : আন্দোলনের ঝাঁঝ ক্রমশ
বাড়িয়ে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। ১ নভেম্বর দিল্লিতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। এর
আগে ত্রিপুরায় শক্তি প্রদর্শন করল ইন্ডিয়া জোটের ত্রিপুরা চ্যাপ্টার। দেশের মুখ্য
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ করা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যকালের
পরবর্তী তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে আজীবন তাঁর বিরুদ্ধে কোন মামলা করা যাবে না বলে
যে নিয়ম রয়েছে তা প্রত্যাহার করা, চলমান এস আই আর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল করা
সহ একাধিক দাবিতে আগরতলা শহরের রাজপথে নামল ইন্ডিয়া মঞ্চের ত্রিপুরা চ্যাপ্টারের প্রধান
দুই দল হল সিপিআইএম এবং কংগ্রেস। সঙ্গে রয়েছে ত্রিপুরা পিপলস পার্টি, সিপিআই, গণমঞ্চ,
আরএসপি, সিপিআইএমএল এবং ফরওয়ার্ড ব্লক।
শুক্রবার
সকাল ১১ টায় রাজধানীর ওরিয়েন্ট চৌমুহনি এলাকা থেকে সুবিশাল মিছিল করে শক্তি প্রদর্শন
করল ইন্ডিয়া জোট। মিছিলটি শহরের কামান চৌমুহনি, পোস্ট অফিস চৌমুহনি, প্যারাডাইস চৌমুহনি
এবং বটতলা হয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক কার্যালয়ে যায়। রাজ্য মুখ্য নির্বাচন
আধিকারিকের কাছে মোট পাঁচ দফা দাবি সনদ তুলে ধরেন ইন্ডিয়া ব্লকের নেতৃত্ব। এদিনের
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি
আশীষ কুমার সাহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী সহ অন্যান্য
নেতৃত্ব। মিছিল শেষ হয় রাজধানীর অফিস লেন এলাকায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার
বক্তব্য রেখে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার হল একটা মুখ, অতিরিক্ত কিছু না। তার শক্তির উৎস হলো
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারা পুঁজিপতিদের স্বার্থ
রক্ষা করার জন্য সরকারে আছেন।
তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আজকের এই কর্মসূচি।
তিনি আরো বলেন ভোটদানে বাধা দেওয়া সহ বিভিন্ন যে কার্যকলাপ সংঘটিত করে চলেছে এই সমাজ
দ্রহিরা। তাদের বিরুদ্ধে জাতপাত নির্বিশেষে এগিয়ে আসতে হবে জনগণের। তাহলেই এই সমাজদ্রোহীদের
থেকে মুক্তি পাবে জনগণ। এবং আগামী দিন দেশে নতুন ইতিহাস তৈরি হবে, ত্রিপুরায় যে জঙ্গলের
শাসন চলছে তার থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে জনগণ নতুন পথে দিশা পাবে। বিধায়ক সুদীপ রায়
বর্মন বক্তব্য রেখে বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটের মধ্যে আছে। যারা গণতন্ত্রের পূজারী, জনগণের
অধিকার খর্ব হতে দেয় না তারা আজ দেশ বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছে। তাদের লক্ষ্য দেশের
সংবিধান রক্ষা করতে হবে, মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে এবং বিশেষ করে যারা দেশ
পরিচালনার জন্য যোগ্য তাদের হাতেই দেশ থাকবে। এই ধারণা গুলি নিয়েই রাজপথে মানুষ। তিনি
আরো বলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কেল্লাফতে ফিরতে বি এল ও -দের দাঁড়ায়
এসআইআর সম্পূর্ণ করে ২ লক্ষ নাম বাতিল করার পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে। তিনি আরো বলেন
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদক্ষেপের পর আরো একজন জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের
দায়িত্ব দিলে হবে না।
এর জন্য প্রথমে
আইন পরিবর্তন করতে হবে। পুরনো আইন চালু করে নতুন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দায়িত্ব
দিতে হবে। ইন্ডিয়া ব্লকের কর্মীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, নির্বাচন আসছে, কেউ যদি জনগণের
ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় তাহলে একযোগে প্রতিহত করবেন। মাঠে প্রহরীর ভূমিকায় থাকতে
হবে। পুলিশের উদ্দেশ্যেও বলেন, নতজানু হবেন না। আমরা মাঠে আছি, যারা ভোট ছিনতাই করবে
তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। পুলিশের পোশাকের সম্মান জানায় ইন্ডিয়া ব্লক। কিন্তু
মন্ডলের নেতারা পুলিশকে সম্মান জানায় না। এবার কিন্তু আর ছেড়ে কথা বলা হবে না বলে
পুলিশের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি বলেন এনডিএ -র পতন নিশ্চিত বলে জানান
তিনি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা বলেন সকলে জানেন দেশ ব্যাপী ভোট চুরি
হচ্ছে। গণতন্ত্র বাঁচাতে ভোট চুরি রুখতে দেশ জুড়ে আন্দোলন চলছে। তারই অঙ্গ হিসাবে রাজ্যেও
বিরোধী দল গুলি ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলনে নেমেছে। গণতন্ত্র ধংশকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন
জারি থাকবে। জ্ঞানের কুমারকে জেলে যেতে হবে। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী
সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান বর্তমানে জাতীয় পতাকা আক্রান্ত। যারা ব্রিটিশদের
দালাল ছিল তারা গত ১৩ বছর ধরে জাতীয় পতাকাকে কালিমালিপ্ত করে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য
জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করে দেশকে কর্পোরেটদের কাছে বিক্রয় করে দেওয়া। তার বিরুদ্ধে দল
মত নির্বিশেষে এইদিন সকালে দেশকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছে। এদিনের কর্মসূচিতে কর্মী
সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষণীয়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান