Tuesday, October 27, 2026
বাড়ি রাজ্য সমাজের গুণধর শিক্ষক বাবাকে ভরণ পোষণ দেন না

সমাজের গুণধর শিক্ষক বাবাকে ভরণ পোষণ দেন না

সমাজের গুণধর শিক্ষক বাবাকে ভরণ পোষণ দেন না

 

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ অক্টোবর : "কথায় আছে শিক্ষক নাকি জাতির মেরুদন্ড__শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর"। শিক্ষকের পেশা সমাজে সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা।তাই শিক্ষক প্রতিটি দেশের প্রতিটি সমাজে নমনীয় ব্যক্তি। তারা পরম তুলল। কিন্তু সমাজে এমন শিক্ষকও রয়েছে যারা জন্মদাতা বাবাকে কাল কুঠুরির মধ্যে ফেলে রেখেছেন। ভাঙ্গা ঘরে বন্দী করে রেখেছেন। ঘর বললে ভুল হবে। গোয়াল ঘরের থেকেও চরম দুর্দশার মধ্যে জন্মদাতা বাবাকে রেখে দিয়েছেন। সামান্যটুকু খাবার পর্যন্ত দিচ্ছেন না। বৃদ্ধ বাবা নিজ হাতে আগুনে পুড়ে একবেলা কোনো রকমে ভাত তৈরি করেন। ভাঙ্গা জীর্ণশীর্ণ কাল কোঠুরিতে নেই বিদ্যুৎ।

তাই বৈদ্যুতিক পাখা ঘোরার কোন সুযোগ নেই। ঘুমাতে পারছেন না। অসহ্য জীবন যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে রয়েছেন চড়িলাম ব্লকের আড়লীয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর মুড়া এলাকার বৃদ্ধ সুকুমার দেবনাথ। সুকুমার দেবনাথের ছেলে টিটন দেবনাথ শিলাছড়ি বিদ্যালয় পরিদর্শকের অধীন আইল মারা হাই স্কুলের সরকারি গ্রেজুয়েট টিচার। তার স্ত্রী পম্পা দেবনাথ জিরানিয়া হাই স্কুলের সরকারি গ্রেজুয়েট শিক্ষিকা। স্বামী স্ত্রী কেউ বৃদ্ধ সুকুমার দেবনাথকে একটি টাকাও দেয় না। কোন খাবার দেয় না। অথচ শিক্ষক ছেলে এবং শিক্ষিকা ছেলের বউ বিলাসবহুল দামি বিল্ডিংয়ে ঘুমায়। দামী দামী খাবার খায়। কিন্তু বৃদ্ধ বাবাকে কিছুই দেয় না। গোটা গ্রামের মানুষ বিষয়টি নিয়ে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ। সাধারণ মানুষের বক্তব্য ভদ্রলোক ও তাদের গরুকে এমন ঘরে রাখে না যেমন ঘরে শিক্ষক ছেলে তার বাবাকে রেখেছে।

শিক্ষক হচ্ছে সমাজের মেরুদন্ড এটা সকলেই জানে কিন্তু সমাজের মেরুদন্ডের যদি এই হাল হয় যারা নিজেদের মা-বাবার প্রতি কর্তব্য ও দায়িত্ব জ্ঞানহীন থাকেন তাহলে তারা সমাজকে কি শিক্ষা দেবেন। যে বাবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ছেলে আজ শিক্ষক সেই শিক্ষক ছেলেই আজ তার বাবাকে দুর্দশার মধ্যে জীবন যাপন করতে দিয়ে রেখেছেন এই যদি হয় সমাজের আসল চিত্র তাহলে তা অবক্ষয় ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। সমাজকে শোধরানোর দায়িত্ব যাদের হাতে তারা যদি নিজেদের বাবা-মায়ের প্রতি যত্নবান না হন তাহলে তারা কাদের শোধরাবেন। এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময়ই দিতে পারবে।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha