স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ অক্টোবর : ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে
রাজ্যের মন্ত্রী বিধায়কদের সিকিউরিটির বহর দিন দিন বেড়ে চলেছে। যেখানে রাজ্যের থানা
এবং বিভিন্ন টিএসআর ক্যাম্পে কর্মী স্বল্পতায় ভুগছে, কোন ঘটনা সংঘটিত হলে পুলিশ আধিকারিকরা
পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ এবং টিএসআর মোতায়েন করতে পারে না। সে জায়গায় জনগণের ভোটে
জয়ী হওয়া মন্ত্রী বিধায়কদের সিকিউরিটি দিন দিন বেড়ে চলেছে। যেখানে মাত্র একটি গাড়ি
এসকর্ট থাকলে যথেষ্ট সেখানে বুকের ছাতা ফুলিয়ে ৫ থেকে ৬ গাড়ি এসকট নিয়ে ঘুরছেন মন্ত্রী
বিধায়করা। এমনটাই অভিযোগ যখন চায়ের দোকান ও যাত্রীবাহী গাড়ির আড্ডাস্থল থেকে উঠে
আসছে সে সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে
গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগ তুললেন বিধায়ক তথা প্রাক্তন জঙ্গি নেতা রণজিৎ দেববর্মা।
তিনি বলেন, বারে বারে নিজের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী পরিবর্তন
নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিধায়ক রণজিৎ দেববর্মা। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিধায়ক
রণজিৎ দেববর্মা জানান তিনি বিধায়ক হওয়ার পর থেকে বারে বারে ওনার দেহরক্ষী পরিবর্তন
করা হচ্ছে ওনাকে কোন কিছু না জানিয়ে। এই নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে বারে বারে
চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু রঞ্জিত দেববর্মার কোন চিঠির জবাব দেওয়া হয় নি। ১০ অক্টোবর ওনাকে
কোন কিছু না জানিয়ে আরও একজন দেহরক্ষীকে তুলে নেওয়া হল। তাঁর দেহরক্ষী পরিবর্তন নিয়ে
খেলা করা হচ্ছে। তাই ১৩ অক্টোবর তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন
ওনার সকল দেহরক্ষী তুলে নেওয়ার জন্য। চিঠির প্রতিলিপি মুখ্যমন্ত্রীকেও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান এইদিনের সাংবাদিক সম্মেলনের পর তিনি নিজের দেহরক্ষী ছেড়ে দিয়ে গ্রামে
নিজ বাড়িতে চলে যাবেন। কারণ শহরে থাকলে ওনার নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। তাই গ্রামে থেকে
তিনি নিজের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাবেন। জনগণ তাঁর নিরাপত্তা দেবে।
বিধায়ক রণজিৎ দেববর্মা এইদিন আপসোস করে বলেন বহু
বিধায়কের দেহরক্ষী ১০ থেকে ১২ বছর ধরে রয়েছে। অথচ তাঁর দেহরক্ষী বারে বারে পরিবর্তন
করা হচ্ছে। কেন এমনটা করা হচ্ছে তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এদিকে এই বিষয়ে
মুখ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা মুখ্যমন্ত্রীর
কাছে কম আসেন। বেশিরভাগ ডিজি সাহেবের কাছে যান। ডিজি সাহেব ভালো করে বলতে পারবেন কেন
তাঁর সঙ্গে এমন সমস্যা হয়েছে। উল্লেখ্য, মন্ত্রী বিধায়কদের নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটির
প্রয়োজন। সেটা কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু দিনের পর দিন সিকিউরিটির বহর
বাড়ানো এবং মন পছন্দের সিকিউরিটি নিজের কাছে আটকে রাখা কতটা গণতান্ত্রিক নিয়ম নীতিতে
রয়েছে জানা নেই। সিকিউরিটি গার্ডদের প্রতিমাসে বেতন এবং এসকোট গাড়ি তেল জনগণের করের
পয়সায় হয়। কিন্তু এগুলি অপব্যবহার করছেন না তো রাজ্যের মন্ত্রী বিধায়করা?
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান