স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
২৭ সেপ্টেম্বর : পানিসাগরে চাঁদার জুলুমবাজির অভিযোগ। আগর বোঝাই গাড়ি আটকে চাঁদার জন্য চালককে মারধরের অভিযোগ। অভিযোগ, বিভিন্ন ক্লাবের পূজা উদ্যোক্তাদের চাঁদার চাপে স্থানীয়রা এবং গাড়ি চালকরা কার্যত অতিষ্ঠ। অভিযোগ উঠছে, পণ্যবাহী গাড়ি রাস্তায় আটকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। অভিযোগকারীদের দাবি, TR-05-0460 নম্বরের একটি অল্টো গাড়িতে বনদপ্তরের বৈধ কাগজপত্র সহ আগর বোঝাই করে কদমতলা রাজনগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হোসেন কাঠালতলির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
অভিযোগ, চারুবাসা এলাকায় পৌঁছালে কালীবাড়ি সংলগ্ন একটি ক্লাবের দুর্গোৎসবের কয়েকজন উদ্যোক্তা গাড়িটিকে থামার জন্য সিগনাল দেয়। চাঁদা দেওয়ার আশঙ্কায় গাড়ি চালক গাড়ি না থামিয়ে ধর্মনগরের দিকে এগিয়ে যায়। তখন ওই ক্লাবের পূজা কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকা ২৫-৩০ জন যুবক প্রায় ১৫-১৬ টি বাইকে দিয়ে গাড়িটির পিছু ধাওয়া করে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ধর্মনগরের অফিসটিলা এলাকায় গাড়িটিকে আটক করা হয়। অভিযোগ, সেখান থেকে চালককে নামিয়ে মারধর করা হয়। জোরপূর্বক গাড়িটিকে ঘুরিয়ে পুনরায় চারুবাসা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পানিসাগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি ও চালককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে গাড়ি চালককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা দাবি করছে তিনি অস্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালিয়েছিলেন এবং কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে—বৈধ কাগজপত্র নিয়ে পণ্য পরিবহণকারী একটি গাড়িকে প্রকাশ্য রাস্তায় থামিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের চেষ্টা এবং গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ উঠার পরও কেন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না? প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ থাকলেও পানিসাগর থানার পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন ও পুলিশের এই নীরবতার কারণেই কিছু পূজা উদ্যোক্তার দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান