স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ সেপ্টেম্বর : এন.সি.সি থানার নাকের ডগায় আবারো পুলিশের ব্যর্থতা
সামনে আসলো! মাদক বিক্রেতার হাতে আক্রান্ত তিন ব্যক্তি! এলাকাবাসীর তৎপরতায় আটক এক
যুবক। অভিযোগ, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রায় ছয়মাস আগে সঞ্জিৎ রায়কে
প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আর সেই পুরনো বিরোধের জেরেই গত ৪ সেপ্টেম্বর সনজিৎ
রায়ের পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি সঞ্জিৎ রায়ের। ঘটনার পর ৫ সেপ্টেম্বর
এনসিসি থানায় মামলা দায়ের করা হলেও, দুই দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ অভিযুক্ত গ্রেফতার
না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে আক্রান্তের পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ সেপ্টেম্বর। অভিযোগ, গোয়ালাবস্তি
এলাকার একটি গবাদি পশুর খাবারের দোকানে খোল, ভুসি সহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে যান অনিল
রায় নামে এক ব্যক্তি। দোকান মালিকের সঙ্গে বাকি টাকা এবং পুরনো পাওনা নিয়ে তাঁর বচসা
শুরু হয় বলে দাবি। অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দোকান মালিক সঞ্জিৎ রায়কে
ঘটনাস্থলে ডাকেন। এরপর সঞ্জিৎ রায় ঘটনাটির প্রতিবাদ করেন। সঞ্জিৎ রায়ের অভিযোগ, এরপরই
অনিল রায়ের নেতৃত্বে প্রায় ৬ থেকে ৮ জন যুবক সেখানে জড়ো হন। তাঁদের হাতে দা, লাঠি,
রড সহ বিভিন্ন অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ। এরপর সঞ্জিৎ রায় এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের
উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞা হারিয়ে
ফেলেন সঞ্জিৎ রায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে আগরতলা জিবি হাসপাতালে নিয়ে যান।
অন্যদিকে, তাঁর ছোট ভাই টুনটুন রায়ও হামলায় গুরুতর আহত হন বলে পরিবারের দাবি।
উন্নত চিকিৎসার
জন্য তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা
সংকটজনক এবং চিকিৎসাধীন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সঞ্জিৎ রায়ের দাবি,
গোয়ালাবস্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে। তার অভিযোগ, অনিল রায়, পিন্টু
রায়, আকাশ রায় এবং বিকি রায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রায় ছয় মাস আগে এই মাদক
ব্যবসার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন বলে দাবি সঞ্জিৎ রায়ের। এরপরই তাঁকে এবং
তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সঞ্জিৎ রায়ের দাবি, সেই
পুরনো বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে
প্রশ্ন ঘটনার পর ৫ সেপ্টেম্বর এনসিসি থানায় মামলা দায়ের করেন সঞ্জিৎ রায়।
অভিযোগ, গোয়ালাবস্তি এলাকা এনসিসি থানার নাকের ডগায়।
কিন্তু ঘটনার দুই দিন পরেও সাতজন অভিযুক্তের মধ্যে মাত্র একজনকে আটক করা হয়েছে বলে
দাবি আক্রান্ত পক্ষের। বাকি অভিযুক্তরা এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত
পক্ষের আরও দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন প্রকাশ্যেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও
তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই অবস্থায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী,
পুলিশের মহানির্দেশক এবং সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের
দাবি জানিয়েছেন সঞ্জিৎ রায়। তার দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত
প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান