স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ আগস্ট : বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি
এবং স্মার্ট মিটার নিয়ে যে সমস্যা রাজ্যে
বৃহত্তর আকার ধারণ করেছে সেটা নিয়ে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এবং বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। শনিবার দিল্লি থেকে রাজ্যে ফিরে রাতের বেলায় মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ, রাজ্যের মুখ্য সচিব জে কে সিনহা
সহ অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। রবিবার এই বিষয়ে সংবাদ
মাধ্যমিক কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার সমস্যা সৃষ্টি করার সরকার ছিল, বর্তমান সরকার সমস্যা সমাধানের সরকার। ইদানিং যে সমস্যাটি সৃষ্টি
হয়েছে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
চাইলে এক্ষুনি কিছু করা যায়। কিন্তু সার্বিক বিষয় চিন্তা করে করতে হবে। যে সমস্যা আছে সৃষ্টি হয়েছে এটা ইচ্ছাকৃত নয়। সরকার কিছু একটা করবে। কিন্তু রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি মানুষকে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেছে। তাই তারা ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। এর তীব্র নিন্দা জানায় সরকার। এদিকে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন স্মার্ট মিটার এবং বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধি করে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটা সাধারণ মানুষের উপর জিজিয়া কর চাপানো ছাড়া আর কিছু নয়। মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী এ বিষয়ে পুরোপুরিভাবে নির্বিকার। দাবি করা হচ্ছে অবিলম্বে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ মাসুল প্রত্যাহার করা হোক এবং স্মার্ট মিটার প্রত্যাহার করা হোক। এদিকে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথকে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার কথা মনে করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মার সময় থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। সেই সময়ের পাঁচটি ডিভিশনকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জনগণের উপর বুঝা চাপিয়ে বেসরকারি সংস্থা গুলিকে মোটা অর্থের সুযোগ পাইয়ে দিয়েছে সরকার। তারপর যখন মানুষ প্রতিবাদে নামে তখন দ্বিতীয় ধাপে আর বেসরকারি করনের দিকে এগোতে সাহস পাইনি সরকার। তারপরেই ১০০ কোটি টাকা নিয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থাগুলিকে রাজ্য থেকে পালিয়ে যেতে দিয়েছে সরকার।
তিনি
আরো বলেন, রতন লাল নাথ শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন অবস্থায় শিক্ষার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। এখন কৃষি এবং বিদ্যুৎ কেও বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন। আসলে স্মার্ট মিটার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নেই সরকারের। স্মার্ট মিটার নিয়ন্ত্রণ করে আদানি। গত কয়েকদিনে রাজ্যে
যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তাতে মানুষ রাস্তায় নেমে বিদ্রোহ দেখানোর পরিস্থিতি হয়ে উঠছে। তাই সতর্ক হোন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে পারেননি নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ। বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথকে রাজ্য ছাড়া করবে জনগণ। তাই অবিলম্বে সরকার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুক বলে দাবি করলেন তিনি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান