স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক,
আগরতলা। ২৯ জুলাই : যে উদ্দেশ্য নিয়ে রাজ্যে জুটমিল গড়ে উঠেছিল, সেই উদ্দেশ্য পূরণ
হয়নি। রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হয়েছে জুটমিল। বুধবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক
সম্মেলন করে পূর্বতন সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলে এই কথা বললেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রনজিৎ
সিংহ রায়। তিনি বলেন, জুটমিলে শ্রমিকদের মধ্যে ছিল দাদাগিরি। তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি
করা হয়েছে। যেখানে মাত্র আটশ সাত জন কর্মী নিযুক্ত থাকার কথা সেখানে ২ হাজার ২৫৩ জন
কর্মী নিয়োগ হয়েছিল।
যার ফলে এখন আদালতের রায় মেনে রাজ্য সরকার ২২০ কোটি
টাকা দিয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে
গেছে তৎকালীন সরকার। তখন সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। যদি তৎকালীন সময়ে
হাইকোর্টের রায় মেনে নিত তাহলে সেই সময় জুটমিলের কর্মচারীরা কুড়ি থেকে ২৫ কোটি টাকা
পেয়ে যেত। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার পাশাপাশি
৬ শতাংশ সুদ যুক্ত করার জন্য। আজকে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না রাজ্যে। অথচ শ্রমিকদের
পরিবারকে এবং রাজ্যবাসীকে বিরোধীদল সিপিআইএম বিভ্রান্ত করে চলেছে। আরো বলেন বামফ্রন্ট
সরকারের আমলে জুট মিলের এই শ্রমিকদের ঠকানো হয়েছে।
আরো বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে
এই শ্রমিকদের বঞ্চিত করেছে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। এই বামফ্রন্ট সরকারের কারণে আজকের
দিনে ১ হাজার কোটি টাকা রাজ্যের জনগণের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এভাবেই রাজ্যের বর্তমান
প্রধান বিরোধী দলকে কাঠগড়ায় তুললেন অর্থমন্ত্রী। সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন,
জুট মিলের যে জায়গা রয়েছে এবারে তাতে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা
গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে ১০ একর জায়গাতে গড়ে তোলা হবে আইটি পার্ক। এতে করে রাজ্যের
২০০০ শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া এখানে গড়ে তোলা হবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট
সেন্টার। পাশাপাশি এখানে গড়ে তোলা হবে একটা মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল। জুট
মিলে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ দীর্ঘদিন কাজ না হওয়ার কারণে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এগুলো অকশন এর মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। সব মিলিয়ে
বলা যেতে পারে জুটমিল চ্যাপ্টার ক্লোজ হতে চলেছে এই রাজ্যে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান