স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
২৩ সেপ্টেম্বর : ত্রিদলীয়
জোটের ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিরোধীদের বাধা দিয়ে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার
করে নির্বাচনে জয়লাভ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। বিগত নির্বাচনগুলির মতই এবারও অগণতান্ত্রিক
কার্যকলাপ তারা জারি রেখেছে। বুধবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই
অভিযোগ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘোষণার কয়েকদিন
আগে নির্বাচন কমিশনার পরিবর্তন করার মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে জোট নিয়ে প্রথম থেকে ধোঁয়াশা
ছিল। দিল্লি থেকে বিধান আসতে সেখানে ছুটে যান নেতৃত্ব। তারপর সেখানে ত্রিদলীয় জোট
হয়। কিন্তু নিচুস্তরে কর্মীদের মধ্যে এই জোট নিয়ে অসন্তুষ্ট দেখা দিয়েছে। তারপরেই
ত্রিদলীয় জোট বুঝে গেছে, নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার দিয়ে তাদের জয়লাভ করা সম্ভব
নয়। তাই তারা বিভিন্ন জায়গায় বাধা সৃষ্টি করছে কংগ্রেসের উপর। বিভিন্ন জায়গায়
মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে দেয়নি এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চাপ সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে রাজ্যে নির্বাচনের বাতাবরণ নেই। নির্বাচন কমিশন, আরক্ষা প্রশাসন
এবং সাধারণ প্রশাসনের ভূমিকা শাসকদলের পক্ষে। তাই এই অগণতান্ত্রিক পরিবেশকে রুখে দাঁড়াতে
এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পুনরুদ্ধার করতে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের ভিলেজ কমিটির
নির্বাচনে মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে তার জন্য আরক্ষা প্রশাসনকে দায়িত্ব
নিতে হবে।
তাই আসন্ন নির্বাচনের
দায়িত্ব সামলাতে রাজ্যে এসেছেন প্রভারী সপ্তগিরি ওলাকা। বৃহস্পতিবার থেকে কংগ্রেস
উনকোটি জেলা, আমবাসা জেলা এবং ধর্মনগর জেলায় নির্বাচনী প্রচার করবে কংগ্রেস। এই কর্মসূচি
গুলিতে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য প্রভারী। তিনি আরো বলেন, এই ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে গণতান্ত্রিক
উপায়ে ত্রিদলীয় জোটকে যোগ্য জবাব দিতে হবে। এমনটাই বললেন জনগণের উদ্দেশ্যে। সাংসদ
সপ্তগিরি শঙ্কর উলাকা সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এডিসি এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান
ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের মধ্যদিয়ে কংগ্রেসকে একবার সুযোগ দিন। যদি কংগ্রেস দল ভালো
কাজ না করে তাহলে কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিন। ২০২৮ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত
প্রদেশ কংগ্রেস। ত্রিপুরাকে বিকাসের রাস্তায় নিয়ে আসার জন্য প্রদেশ কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধ
ভাবে লড়াই করবে। বিজেপি তিপ্রা মথা নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ব্যস্ত। তাদের কাছে মানুষের
জন্য ভাবার সময় নেই।বিগত ৫ বছর এডিসি তিপ্রা মথার হাতে ছিল। নির্বাচনের পূর্বে তারা
বলেছিল ২৩ হাজার সরকারি চাকুরি প্রদান করবে। ৬ হাজার পুলিশ কর্মী নিয়োগ করবে। সকল ছেলে
মেয়েকে ল্যাপটপ ও স্মার্ট ফোন প্রদান করা হবে। বাস্তবে ক্ষমতায় বসে তারা কিছুই করে
নি। তারা বিজেপির ছোট ভাই বলে জানান তিনি। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন
রাজ্য প্রভারী সপ্তগিরি ওলাকা, প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, শব্দ কুমার
জামাতিয়া সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান