স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক,
আগরতলা। ২৯ জুলাই : চাকরি নিয়মিতকরণ, সমকাজে সমবেতন এবং অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা সহ
সাত দফা দাবিতে জোলাইবাড়ি আর ডি ব্লকের অধীনে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার
কার্যালয়ে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি প্রদান করলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা। বুধবার
ত্রিপুরা অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেল্পার্স সংঘের উদ্যোগে বিভিন্ন আই.সি.ডি.এস
প্রকল্পের আওতাধীন কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি
হয়ে তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা আর্থিক বঞ্চনার শিকার। স্মারকলিপিটি সংশ্লিষ্ট
সিডিপিও-র মাধ্যমে রাজ্য সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার উদ্দেশে পাঠানো
হয়েছে। দপ্তর এবং রাজ্য সরকার যদি তাদের দাবিগুলি পূরণ না করে তাহলে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে
বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। এবং দাবি দেওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে
বলে জানান। অপরদিকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ৭ দফা দাবি না পূরণ হলে ১ আগস্ট থেকে টি.এইচ.আর
ও পোষণ ট্র্যাকার পরিষেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি ত্রিপুরা অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড
হেলপার্স সংঘ, ত্রিপুরা প্রদেশের। বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে সালেমা আইসিডিএস প্রকল্পের
শিশু উন্নয়ন প্রকল্প আধিকারিক -এর কাছে ৭ দফা দাবি সনদ জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের দাবি,
দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হওয়ায়
মাঠপর্যায়ে পরিষেবা চালিয়ে যেতে তারা চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন।
বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি
কর্মীদের সরকারি মোবাইল ভিত্তিক বিভিন্ন অনলাইন কাজ, বিশেষ করে পোষণ ট্র্যাকার পরিচালনার
জন্য ব্যক্তিগত অর্থে মোবাইল রিচার্জ করতে হচ্ছে। তাই প্রতি মাসে ৩০০ টাকা মোবাইল রিচার্জের
ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও, খাদ্য সরবরাহ বিল প্রতি মাসে নিয়মিত পরিশোধ,
২০১৮ সালের নির্ধারিত খাদ্য সরবরাহের হার বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃদ্ধি,
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের আনুষঙ্গিক ব্যয় ও শাড়ির অর্থ প্রদান, পুষ্টি প্রণোদনা দ্রুত মঞ্জুর
এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতো অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্যও মহার্ঘ ভাতা চালুর
দাবি তোলা হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা মিনা দেবনাথ বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা
শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন।
কিন্তু তাঁদের ন্যায্য আর্থিক সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা না থাকায় কর্মক্ষেত্রে
নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন
জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, উল্লেখিত দাবিগুলি
দ্রুত কার্যকর না হলে আগামী ১ আগস্ট থেকে টিএইচআর-এর বাজারজাত সামগ্রী বিতরণ বন্ধ রাখা
হবে এবং শুধুমাত্র চাল ও ডাল দেওয়া হবে। পাশাপাশি পোষণ ট্র্যাকার-সহ মোবাইল ভিত্তিক
অনলাইন কাজও বন্ধ রাখবেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। এদিনের ডেপুটেশনে উপস্থিত ছিলেন ধলাই
জেলা বিএমএস সম্পাদক নারায়ণ দেবনাথ, সহ-সভাপতি সন্দীপ দেব, যুগ্ম সম্পাদক দীপক ঘুয়েশ্বামী
সহ অন্যান্যরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান