স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ জুলাই : গত কুড়ি জুলাই
রাজ্য পুলিশের সদর কার্যালয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ
ধ্যানকরের। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে কংগ্রেস দাবি তুলেছিল ত্রিপুরা হাইকোর্টের
বিচারপতিকে দিয়ে যেন ঘটনার তদন্ত করা হয়। কিন্তু রাজ্য সরকার শুক্রবার পুলিশ সুপার
পর্যায়ে তদন্ত দেয়। তারপরেই একাধিক প্রশ্ন তুলে সরব হলেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন।
তিনি প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ডিজির মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করতে
যে তদন্তকারী টিম গঠন করা হয়েছে তাতে ত্রিপুরাবাসী এবং কংগ্রেস মনে করে এটা একটা আইওয়াশ।
সরকার সঠিক
তদন্ত হতে দেবে না এবং তদন্তকারী টিমের উপর একটা চাপ থাকবে। অনেক অজানা তথ্য লোপাট
করার জন্য এই তদন্তকারী টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক
পর্যন্ত নিরাপদ নয়। তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি খুন তা নিয়ে একটা ধুঁয়াশা
তৈরি হয়েছে জনগণের মনে। এটা যদি ডিজির ফাঁসি হয়ে থাকত তাহলে মুখের আকৃতি বিকৃত হয়ে
থাকতো। কিন্তু জিবি হাসপাতালে গিয়ে এমন কিছু লক্ষ্য করা যায়নি। কংগ্রেস প্রতিনিধি
দলের মনে হয়েছে যেন ডাইরেক্টর অফ জেনারেল পুলিশ গভীর নিদ্রায় আছেন। কোনভাবেই মনে
হয়নি তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তাই হাইকোর্টের বিচারপতির দ্বারা তদন্ত করার জন্য দাবি
করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে পুলিশ সুপার পর্যায় দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিধায়ক
সুদীপ রায় বর্মন বলেন, কিছুদিন আগে ডিজিকে ব্যাপক অপমানিত হতে হয়েছে সাধারণ মানুষের
সামনে।
এসপি-র তদন্তে
বিষয়গুলি কি বের হয়ে আসবে? এবং যদি কোন ড্রাগস মাফিয়াদের আটক করার জন্য চাপ সৃষ্টির
কারণে হয়ে থাকে তাহলে সেটাও কি উঠে আসবে এসপি-র তদন্তে? এমনও তো হতে পারে পরিকল্পিত
খুন, গলায় টিপে হত্যা করে বাথরুমের মধ্যে শুইয়ে রাখা হয়েছে বা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে!
তাই এ বিষয়গুলি জেলা পুলিশ সুপারের তদন্তে উঠে আসবে? তাহলে হাইকোর্টের বিচারপতি দ্বারা
তদন্ত করতে অসুবিধা কোথায় সরকারের? তাই মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুনরায় দাবি
করা হচ্ছে হাইকোর্টের বিচারপতি দিয়ে ডিজির মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে। আয়োজিত
সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা
সহ অন্যান্যরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান