স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ জুন : কমলপুর মহকুমার অন্তর্গত ২০৮ নং জাতীয় সড়কের এরারপার ব্রিজ সংলগ্ন ধলাই নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী বহু পরিবারের জীবন আজ চরম সঙ্কটের মুখে। ধলাই নদীর ক্রমাগত ভাঙনে দিন দিন নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন নদী ঘেঁষা বাড়িঘর। বর্ষা শুরু হতেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০৮ নং জাতীয় সড়ক নির্মাণের সময় জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থা NHDSL অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধলাই নদীর উপর মাটি ফেলে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
শুধু তাই নয়, নদীর তীর রক্ষায় থাকা বোল্ডারগুলিও সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি এলাকাবাসীর। এরপর ভারী বর্ষণের সময় নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেলে সেই অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে যায় এবং প্রবল স্রোতে আশেপাশের বসতবাড়ি ও জমিজমার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি তখন নির্মাণকারী সংস্থার দ্বারস্থ হলে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে নদী তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এলাকাবাসীরা জানান, সমস্যার সমাধানের দাবিতে একাধিকবার তৎকালীন কমলপুর মহকুমা শাসক ও ধলাই জেলা শাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। এমনকি জেলা শাসক স্বয়ং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আজও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। বর্ষা মরশুম শুরু হওয়ায় নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। ফলে নতুন করে আতঙ্কে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী পরিবারগুলির। স্থানীয়দের বক্তব্য, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তারা। কখন নদীর জল ঘরবাড়ি, জমি জমা সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়, সেই আতঙ্কে আছে তারা। এখন এলাকাবাসীর দাবি—আর আশ্বাস নয়, অবিলম্বে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে তাদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন।

