বাড়িরাজ্যমোটা অংকের বিনিময়ে গাঁজা কারবারিকে ছেড়ে দিল পুলিশ, অভিযোগ অটো চালকদের

মোটা অংকের বিনিময়ে গাঁজা কারবারিকে ছেড়ে দিল পুলিশ, অভিযোগ অটো চালকদের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ জুন :আবারো মাদক কান্ডে নাম জোরালো রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত ত্রিপুরা পুলিশের। গাঁজা সমেত ধরা পড়ার পর মোটা অংকের বিনিময়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে গাঁজা কারবারি। ঘটনা মঙ্গলবার বিলোনিয়া জিআরপি থানায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা ট্রেন দিয়ে গাঁজা পাচার করার চেষ্টা করেছিল চারজন ব্যক্তি। পুলিশের সামনে তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একজনকে গাঁজা সহ আটক করতে সক্ষম হয়েছিল পুলিশ।

পুলিশ তার কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অভিযোগ উঠল বিলোনিয়া থানার এসআই প্রেমজিৎ রায়, পুলিশের আইবি নেপাল নমঃ সহ জিআরপি পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীরা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার সকালের এই ঘটনায় স্টেশন চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে TR 07 G0 2267 নম্বরের একটি গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় জিআরপি থানার পুলিশ গাড়িটি আটক করে। তল্লাশিতে একটি ব্যাগের ভিতর থেকে বেশ কয়েক কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। গাড়িতে থাকা তিনজন পালিয়ে গেলেও গাঁজা সহ একজনকে আটক করা হয়।

তাদের আরও অভিযোগ, আটকের ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে বিলোনিয়া থানার গাড়ি নিয়ে সাধারণ পোশাকে ঘটনাস্থলে আসেন এসআই প্রেমজিৎ রায় ও আইবি নেপাল নমঃ। এরপর গাঁজা ও আটক যুবককে জিআরপি থানার ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের ওই ঘরে যেতে বারণ করা হয় এবং বলা হয় ‘কিছু হয়নি’। কিছুক্ষণ পর এসআই প্রেমজিৎ, আইবি নেপাল সহ জিআরপি স্টাফরা ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এর ২-৩ মিনিটের মধ্যেই আটক যুবক জিআরপি থানার ভিতর থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শী অটো চালকদের আরো দাবি, যুবকটি পালানোর সময় স্টেশন চত্বরের কিছু লোকজন পিছু ধাওয়া করলেও পুলিশের কোনও ভূমিকা দেখা যায়নি। তাদের অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই যুবককে পালাতে সহযোগিতা করা হয়েছে। বিষয়টির অটো চালকদের নজরে আসতেই ক্যামেরা বন্দী করেছেন তারা। দেখা গেছে জঙ্গল দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে গাঁজা পাচারকারী। এভাবে পাচারকারীদের মোটা অংকের বিনিময়ে পালিয়ে যেতে পুলিশ বাবুরা প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে চলেছে। রেল স্টেশন চত্বরে গাঁজা সহ কেউ ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী জিআরপি থানার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। সেখানে বিলোনিয়া থানার এসআই কীভাবে হস্তক্ষেপ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। নেশা কারবারীদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগ নতুন নয়। আগেও বহুবার এ ধরনের ঘটনা নজরে এসেছে তাদের। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো যেখানে রাজ্য সরকার নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার স্বপ্ন দেখছে সেখানে সর্ষে ভূত লুকিয়ে আছে। যাইহোক অটো চালকরা দাবি করেছেন আজকের ঘটনাটি যেন উচ্চ পর্যায় তদন্ত হয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য