বাড়িরাজ্যআঙুর চাষ সম্প্রসারণে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী

আঙুর চাষ সম্প্রসারণে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩ জুন : ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্রে যুক্ত হলো এক নতুন সম্ভাবনার অধ্যায়। রাজ্যে প্রথমবারের মতো সফলভাবে মিষ্টি আঙুর উৎপাদন হওয়ায় কৃষি বৈচিত্র্য ও বাণিজ্যিক ফলচাষে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার আরও ১৮টি আঙুরের জাতের পরীক্ষামূলক চাষ, গবেষণা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।শনিবার উনকোটি জেলার চণ্ডীপুরে বাণিজ্যিক আঙুর চাষ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং নাবার্ড অর্থায়িত প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ। এ কথা বলেন।

এদিন মন্ত্রী প্রথমবারের মতো সফলভাবে মিষ্টি আঙুর উৎপাদিত একটি বাগান পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে কৃষকদের মধ্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করেন।পরে মন্ত্রী  জানান, ভারতে আঙুরের গড় উৎপাদনশীলতা প্রতি হেক্টরে ২৪ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, ত্রিপুরার বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে আঙুর চাষ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

তিনি জানান একাধিক গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা চারটি আঙুরের জাত চাষে সফল হয়েছেন, যার মধ্যে দুটি ওয়াইন তৈরির উপযোগী জাত রয়েছে। আঙুর চাষিদের সহায়তার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং সঠিক পদ্ধতিতে আঙুর চাষের জন্য তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।কৃষি মন্ত্রী আরও জানান, প্রায় দুই দশক পর ২০২৪ সালে উনকোটির কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে) পুনরায় আঙুর চাষ নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করে। ইতোমধ্যে আঙুরের মিষ্টতা, উৎপাদন এবং ফলের গুণগত মানের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আইসিএআর-ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর গ্রেপস থেকে ছয়টি আঙুরের জাত ত্রিপুরায় এনে রোপণ করা হয়। বিজ্ঞানীদের একটি দল অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে, যাতে ত্রিপুরার মতো অপ্রচলিত আঙুর চাষ অঞ্চলের জন্য উপযোগী চাষপদ্ধতি নির্ধারণ করা যায়।ত্রিপুরায় আঙুর চাষের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফলের পর্যাপ্ত মিষ্টতা না থাকা, আমদানি করা জাতগুলোর উপযুক্ততা নিয়ে সীমাবদ্ধতা, অতিবৃষ্টি, উচ্চ আর্দ্রতা, প্রয়োজনীয় কৃষি-রাসায়নিকের অপ্রতুলতা এবং আঙুর চাষ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব।

আঙুর চাষকে আরও লাভজনক ও বিস্তৃত করতে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রোথ রেগুলেটর ব্যবহারের মাধ্যমে আঙুরের মিষ্টতা বৃদ্ধি।ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, আঙুর চাষের সম্ভাবনা নিয়ে ত্রিপুরা সরকারকে সুপারিশ প্রদান, আরও ১৮টি আঙুরের জাতের পরীক্ষামূলক চাষ, গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, কৃষকদের জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, আঙুর চাষভিত্তিক ক্লাস্টার গঠন, আঙুর বাগান স্থাপন, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, আঙুরের রস ও রেডি-টু-সার্ভ (আরটিএস) পানীয় প্রস্তুতকরণে প্রশিক্ষণ, ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং ক্লাস্টারভিত্তিক ক্ষুদ্র জুস প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।অনুষ্ঠানে মন্ত্রী টিংকু রায়, উদ্যানপালন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য