নয়াদিল্লি, ৩ জুন (হি.স.) : ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে নতুন করে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। একদিকে মার্কিন বাণিজ্য আইনের ধারা-৩০১-এর আওতায় তদন্ত, অন্যদিকে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি—এই দুই বিষয়কে ঘিরে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক বুধবার জানিয়েছে, তথাকথিত ‘বাধ্যতামূলক শ্রম’ সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ধারা-৩০১ তদন্ত চালাচ্ছে, তা নিয়ে ভারত আমেরিকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। একইসঙ্গে দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর (ইউএসটিআর) ভারত-সহ ৫৪টি অর্থনীতি থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, এই দেশগুলি বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ও বাণিজ্য রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যদিও এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ভারত সরকারের বক্তব্য, বিষয়টি এখনও পরামর্শ ও জনমত সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২২ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি শুনানিতে অংশগ্রহণের আবেদন করতে পারবে এবং ৬ জুলাই পর্যন্ত লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর ৭ জুলাই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সব মতামত বিবেচনার পরই মার্কিন প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বাণিজ্য মন্ত্রকের মতে, নয়াদিল্লির প্রধান লক্ষ্য হল সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা এড়ানো এবং একইসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির তুলনায় মার্কিন বাজারে আরও সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। বিশেষ করে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের জন্য মার্কিন প্রস্তাবে কিছু সীমিত শুল্ক-সুবিধার সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার আবহে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও রপ্তানি বাজারের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

