স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ মার্চ : রাস্তায় পথ কুকুর দ্বারা যাতে কেউ আক্রমণের শিকার না হয় তার জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যেক রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। অথচ সে নির্দেশিকা তোয়াক্কা করছে না ত্রিপুরা সরকার। যার কারণে আবারো পথ দ্বারা আক্রমণের শিকার বহু মানুষ। রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কমলপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় এক নজিরবিহীন আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এক উন্মত্ত পাগল কুকুরের হিংস্র তাণ্ডবে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৩ জন।
রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত নির্বিচারে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষকে গুরুতরভাবে আহত করেছে কুকুরটি। রাস্তাঘাটে চলাচলকারী নিরীহ মানুষদের উপর আক্রমণে গোটা এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় তাঁদের কমলপুর বিমলসিংহ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গুরুতর আহতদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জানা যায়, অধিকাংশ আক্রমণের ঘটনাই কমলপুর শহর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ঘটে। এমনকি সোমবার সকালেও আরও ২ জনকে কামড়ে দিয়ে কুকুরটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে প্রশাসনের তৎপরতায় অবশেষে কুকুরটিকে আটক করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক চরমে। আহতরা হলেন বিকাশ লোহার, ভারতী দেবনাথ, হেমন্ত বোনাজ, সঞ্জয় তাঁতি, প্রাণেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যী, দিলীপ কান্তি ঘোষ, গোপাল শব্দকর, মনোজ কান্তি ঘোষ, প্রিয়াংশু দেবনাথ, কাজল গুহরায়, রাজলক্ষ্মী দেববর্মা, মনোজ কন্দ, সাইলেশ পাল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, হাসপাতাল, স্কুল, বাস স্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকা থেকে কুকুর সরিয়ে বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে হবে। কুকুরদের অবশ্যই ভ্যাকসিন ও বন্ধ্যাত্বকরণ করতে হবে এবং কুকুরের কামড়ে মৃত্যু বা আঘাতের জন্য রাজ্য সরকারকে “ভারী ক্ষতিপূরণ” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে না রাজ্যে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মান্যতা দিলে একদিকে যেমন মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে না অপরদিকে পথ কুকুরগুলি সুরক্ষিত থাকবে বিভিন্ন সেল্টার হাউজে।

