Monday, July 27, 2026
বাড়ি রাজ্য মায়ের গমন অনুষ্ঠানের জন্য শহরে বন্ধ থাকবে একাধিক রাস্তা, উদ্বোধন স্থলের প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা, রাজ্যে বিসর্জন হয়েছে ১৬৫৩ টি প্রতিমা

মায়ের গমন অনুষ্ঠানের জন্য শহরে বন্ধ থাকবে একাধিক রাস্তা, উদ্বোধন স্থলের প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা, রাজ্যে বিসর্জন হয়েছে ১৬৫৩ টি প্রতিমা

মায়ের গমন অনুষ্ঠানের জন্য শহরে বন্ধ থাকবে একাধিক রাস্তা, উদ্বোধন স্থলের প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা, রাজ্যে বিসর্জন হয়েছে ১৬৫৩ টি প্রতিমা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩ অক্টোবর : প্রতিবছরের মতো এবছরও শনিবার আগরতলা শহরে অনুষ্ঠিত হবে মায়ের গমন। এবছর মায়ের গমন অনুষ্ঠান চতুর্থ বর্ষে পা রাখতে চলেছে। প্রথম দুবছর সিটি সেন্টারের সামনে থেকে শুরু হয় মায়ের গমন অনুষ্ঠান। বিগত বছর থেকে মহারানী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয় মায়ের গমন অনুষ্ঠান। শুক্রবার মায়ের গমন অনুষ্ঠানের সূচনা স্থল পরিদর্শন করতে যান তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য। তিনি পরিদর্শনের পর জানান, শনিবার বিকাল পাঁচটার সময় মায়ের গমন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

 মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা। এদিন আগরতলা শহরের নয়টি জোন থেকে প্রতিমা নিয়ে পূজা উদ্যোক্তারা শোভাযাত্রায় অংশ নেবে। তার প্রথমে প্রতিমা নিয়ে মহারানী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে আসবে। তারপর কামান চৌমুহনি, পোস্ট অফিস চৌমুহনি, মেলার মাঠ, বটতলা হয়ে দশমী ঘাটের উদ্দেশ্যে যাবে। তিনি আরো জানিয়েছেন এবছর এখন পর্যন্ত ৪০টি পূজা কমিটির পক্ষ থেকে নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। যারা এই শোভাযাত্রায় সামিল হবে।

 পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে শুক্রবার। নির্দেশিকায় জানানো হয় শনিবার দুপুর ২টা থেকে যতক্ষণ না শোভাযাত্রা সম্পন্ন হবে ততক্ষণ পর্যন্ত লায়নস গেট অর্থাৎ উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদ থেকে জ্যাকশন গেট, কামান চৌমুহনী, সূর্য চৌমুহনী, পোস্ট অফিস চৌমুহনী, প্যারাডাইস চৌমুহনী এবং বটতলা হয়ে দশমীঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি শুধুমাত্র প্রতিমা দুর্গার বিসর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। এদিন দুপুর দুইটা থেকে নাগরেজলা, বটতলা, দশমীঘাট, জয়পুর, অগন্তক ক্লাব, জয়নগর অফিস লেন, ফায়ার সার্ভিস চৌমুহনী, আইজিএম চৌমুহনী, বীরেন্দ্র ক্লাব জংশন, গান্ধীঘাট, আইজিএম হাসপাতালের পিছনের দিক, আরএমএস চৌমুহনী, মধ্যপাড়া রোড, ওরিয়েন্ট চৌমুহনী, জ্যাকসন গেট, গোলবাজার, পুরাতন চৌমুহনী, মোটরসাইকেল বাজার, লঞ্চঘাট। স্ট্যান্ড, গণরাজ চৌমুহনী, মহিলা কলেজ, টাউন হল, আরএস ভবন ক্রসিং, বিকে চৌমুহনী দিয়ে যানবাহন নিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে রোগী, বিমান যাত্রী, রেল যাত্রীদের জন্য খোলা থাকবে টিএমসি হাপানিয়া থেকে আইজিএম, জিবিপি হাসপাতাল, আইএলএস হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য হাপানিয়া - এ.ডি নগর- ফ্লাই ওভার-আইজিএম- টিআরটিসি-বিকে চৌমুহনী- কর্নেল চৌমুহনী-হারাধন সংঘ- উত্তর গেট-রাধানগর-মূর্তিপ্রাঙ্গন রোড। বিমান যাত্রী, রেল যাত্রীদের সাথে বৈধ বিমান টিকিট বা বোর্ডিং পাস রাখতে হবে এবং গাড়িতে বিমানবন্দর এবং রেলপথের যাত্রী স্টিকার লাগানোর জন্য নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। যাত্রীরা বিমানবন্দর এবং রেল স্টেশনে যাওয়ার জন্য এবং বিমানবন্দর ও রেল স্টেশন যাওয়ার জন্য যেকোনো রাস্তা ব্যবহার করতে পারবে।

ভিআইপি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গাড়ি পার্কিং করার জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণ। অপরদিকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য আইজিএম চৌমুহনী- আরএমএস চৌমুহনী-ওরিয়েন্ট চৌমুহনী-জ্যাকশন গেট বক্স কালভার্ট, বটতলা টিআরটিসি কমপ্লেক্স, উড়ালপুলের ৩৮ থেকে ৪২ নম্বর পিলারের নীচে, গান্ধীঘাট থেকে রামকৃষ্ণ মিশন, গাঙ্গাইল রোড, পূর্ব আগরতলা থানার পিছনে। অপরদিকে শুক্রবার আগরতলা দশমী ঘাটে জাঁকজমকভাবে চলে প্রতিমা নিরঞ্জন। এদিন সন্ধ্যা থেকেই দশমী দেখার জন্য আগরতলা শহরের বটতলা, জয়নগর এবং প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় রাস্তার দুপাশে জড়ো হয় মানুষ। শুক্রবার দীর্ঘ রাত পর্যন্ত এই দশমীর চলে শহরে। অধিকাংশই ছিল বনেদী বাড়ির দশমী। অধিকাংশ ক্লাব শনিবার দশমীতে শামিল হবে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ৭৭২ টি পূজার মধ্যে ৪৯৪ টি প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। অন্যান্য জেলার মধ্যে উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ২৭৫টি পূজার মধ্যে ১৯৭ টি, ঊনকোটি জেলায় ২২০ টি পূজার মধ্যে ১১৯ টি, ধলাই জেলায় ২৫৮ টির মধ্যে ১৫৯ টি, খোয়াই জেলায় ৩৯৭ এর মধ্যে ২৯১ টি, সিপাহীজলা জেলায় ৪১১ টির মধ্যে ১৩৪ টি, গোমতী জেলায় ৩৮২টির মধ্যে ১৩৭ টি, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ২৬৮ টির মধ্যে ১২২ টি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে। সর্বমোট ২৯৮৩ টি পূজার মধ্যে ১৬৫৩ টি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে। শনিবার আগরতলা শহরে কার্নিভাল। ইতিমধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে প্রশাসন।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান