স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, সেপ্টেম্বর ২৮ : বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন যশবীর সিং। বাবার সঙ্গে অনুশীলন করেন তিনি। সেদিনও তার হেরফের হয়নি। কঠোর অনুশীলনের পর তখন শরীরটা একটু বিশ্রাম চাইছিল। হঠাৎ বেজে উঠল ফোন। ওপারে ভারতের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন নীরজ চোপড়া। কেন ফোন করেছেন, প্রথমে বুঝতেই পারেননি যশবীর। কিন্তু কে জানত, সেই ফোনেই ‘ভাগ্য’ খুলে যাবে যশবীরের।
গোড়ালির লিগামেন্টে চোট পেয়ে এবারের এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গিয়েছেন নীরজ। তাঁর জায়গায় ভারতীয় জ্যাভলিন দলে যশবীরকে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। সেই ফোনই শেষ পর্যন্ত যশবীরের সামনে খুলে দেয় এশিয়াডের দরজা। যশবীরের কথায়, “আমি তখন অনুশীলন করছিলাম। বাড়িতে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। সেই সময় নীরজ ভাই ফোন করেন। বলেন, ‘ভাই, আমি চোট পেয়েছি। তুমি ওদের সঙ্গে কথা বলো। যাতে আমার জায়গায় তোমাকে নেওয়া হয়’। এরপরেই আমাকে নেওয়া হয়।”
যদিও যশবীরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তাঁকে এই সুযোগের দাবিদার করে তুলেছিল। গ্লাসগোয় কমনওয়েলথ গেমসে ৮৫.৪১ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। সেটিই তাঁর ব্যক্তিগত সেরা। একই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন নীরজ। যশবীরের শেষ থ্রোয়ের আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন নীরজ। সেই মুহূর্তে নিজেকেই বলেছিলেন, “হয় এপার, না হয় ওপার।” যশবীর জানিয়েছেন, “প্রতিযোগিতার আগে নীরজ আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছিল। শেষ থ্রোয়ের আগেও আমাদের কথা হয়।” তার পরেই ৮৫.৪১ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে পোডিয়ামে ওঠেন যশবীর।
এবার লক্ষ্য এশিয়ান গেমস। নীরজ না থাকায় ভারতের পুরুষদের জ্যাভলিন দলে যশবীরের সঙ্গে থাকবেন রোহিত যাদব। গ্লাসগোর সাফল্য তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সামনে যে কঠিন পরীক্ষা, তা ভালোই জানেন যশবীর। হাই-ভোল্টেজ ইভেন্ট শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর, বিকেলে। আর সেই ‘পরীক্ষা’র আগে নীরজের ফোনের কথাগুলিই হয়তো ২৪ বছরের অ্যাথলিটকে আরও তাতিয়ে দেবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান