Thursday, October 8, 2026
বাড়ি জাতীয় কাশ্মীরে গিয়ে গা ঢাকা! ৬০০ বাংলাদেশিকে এয়ারলিফট করে আনা হচ্ছে বাংলায়, শীঘ্রই পুশব্যাক?

কাশ্মীরে গিয়ে গা ঢাকা! ৬০০ বাংলাদেশিকে এয়ারলিফট করে আনা হচ্ছে বাংলায়, শীঘ্রই পুশব্যাক?

কাশ্মীরে গিয়ে গা ঢাকা! ৬০০ বাংলাদেশিকে এয়ারলিফট করে আনা হচ্ছে বাংলায়, শীঘ্রই পুশব্যাক?

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৮ অক্টোবর :     জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে বেআইনিভাবে বসবাস করছে প্রায় ১৫ হাজার অনুপ্রবেশকারী? তাঁদের মধ্যে যেমন বাংলাদেশি রয়েছে, তেমনই রয়েছে রোহিঙ্গারাও। আবার অন্যান্য দেশের অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছে তাঁদের মধ্যে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে। ইতিমধ্যেই ৬০০ জন বাংলাদেশিকে চিহ্নিত করেছেন জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। যে দালালচক্রের মাধ্যমে তাঁরা অনুপ্রবেশ করেছিল, গোয়েন্দারা সেই চক্রের সন্ধানও চালাচ্ছেন।


গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলির ভিত্তিতে তাঁদের শনাক্তকরণের পর ‘এয়ার লিফটিং’ করে নিয়ে আসা হচ্ছে বাংলায়। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে ওই বাংলাদেশিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ১৫০ জন বাংলাদেশিকে কাশ্মীর থেকে বায়ুসেনার বিমানে করে নিয়ে আসা হয়েছে এই রাজ্যেই।তিনটি সীমান্তবর্তী জায়গা দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করেছে বিএসএফ। বৃহস্পতিবারের মধ্যে আরও ১৫০ জন বাংলাদেশিকে এই রাজ্যে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকিদের পরের দফায় ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে চলছে আলোচনা।


গোয়েন্দাদের সূত্র জানিয়েছে, গত বেশ কয়েক বছর ধরে বেআইনিভাবে বাংলার সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা। ইতিমধ্যেই নথিপত্র ও পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ৬০০ জন বেআইনিভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মহিলারাও রয়েছে। আপাতত আটক করে তাঁদের রাখা হয় আলাদা জায়গায়। ওই ৬০০ জনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৫০ জনকে বায়ুসেনার বিমানে করে নিয়ে আসা হয় বাগডোগরা বিমানবন্দরে। বিএসএফ সেখান থেকে তাদের সড়কপথে নিয়ে যায় সীমান্তবর্তী এলাকায়। চ্যাংরাবান্ধা, হিলি ও মালদহ সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবাররে মধ্যেই আরও ১৫০ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে আসা হচ্ছে বাংলায়। তাঁদের উত্তরবঙ্গ সীমান্ত ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের বেনাপোল ও গেদে সীমান্ত পেরিয়েও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আলোচনা চলছে। এ ছাড়াও আরও ৩০০ জন বাংলাদেশিকে পরের দু’দফায় নিয়ে এসে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। গোয়েন্দাদের দাবি, মূলত দালালচক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা চোরাপথে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করে। তার পর ওই দালালচক্রের মাধ্যমেই তাঁরা ছড়িয়ে পড়ে এই রাজ্য-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে নিয়ে যাওয়া হয় জম্মু ও কাশ্মীরে।


গোয়েন্দাদের কাছে খবর, তাঁদের মধ্যে অনেকেই সেখানে শ্রমিকের কাজ করে। আবার অনেকে দোকান বা রেস্তোরাঁয় কাজ জুটিয়ে নেয়। যদিও গোয়েন্দাদের অভিমত, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের কিছু সদস্য ও জঙ্গিরা যে রোহিঙ্গাদের মগজধোলাই করেছে, তারাও ওই অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের ছদ্মবেশেই পৌঁছে যায় জম্মু ও কাশ্মীরে। জম্মুর বিভিন্ন জেলা ও শ্রীনগর-সহ কাশ্মীরের অনেক জায়গায়ও তারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে শুরু করে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে মিশে গিয়ে তারা পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছে, এমন অভিযোগও ওঠে। তারই সূত্র ধরে জম্মু ও কাশ্মীর এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণের কাজ শুরু করেন বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।

Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha