স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৬ অক্টোবর : এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দিল্লিতে পথে নেমেছে কংগ্রেস। এদিন সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উলটো দিকে আকাশবাণী ভবনের সামনে ধরনা দিচ্ছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সন্ধে নাগাদ সেখান থেকেই তাঁকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। আকাশবাণীর সামনে থেকে ধরনা তুলে দিতে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেস কেসি বেণুগোপাল, দীপেন্দর সিং হুডা-সহ একদল কংগ্রেস নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আকাশবাণী ভবন চত্বর থেকে ধরনা তুলে দিতেই কড়া পদক্ষেপ করা হয়। এদিন সকালে আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকেই কংগ্রেস নেতা হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “কেউ ছাড় পাবে না। সবাইকে ধ্বংস করে দেব।”
আকাশবাণী ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একসূত্রে বেঁধে রাহুল গান্ধী বললেন, “আমি এখানে আছি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। আরও ৩০০ জন সাংসদ এখানে এসেছিলেন। তাঁরাও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চান। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন।” রাহুলের দাবি, “যে কাণ্ডটা দেশে ঘটেছে সেটা দেশদ্রোহিতা, বিশ্বাসঘাতকতা। কেউ ছাড় পাবেন না।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতার প্রশ্ন, “আমরা ৩০০ জন সাংসদ এসেছি। আমরা এই দেশের জনগণের প্রতিনিধি। কেন নির্বাচন কমিশনাররা আমাদের সঙ্গে দেখা করছেন না। কেন জ্ঞানেশ কুমার আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন না।” রাহুল বলছে, “নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবতরা ভোট চুরি করে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে হাইজ্যাক করে নিয়েছেন। বুঝতে পাচ্ছি না দেশে হচ্ছেটা কী? নির্বাচন কমিশনার যদি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা না করে, তাহলে কেমন গণতন্ত্র।”
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন অভিযান করে ইন্ডি জোট। লোকসভার বিরোধী রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এদিন মিছিলে পা মেলান সম্মিলিত বিরোধী জোটের সাংসদরা। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলে-সহ জোটের শীর্ষ নেতারা মিছিলে হাঁটেন। তবে আপ এবং ডিএমকের কোনও প্রতিনিধি ছিলেন না। শেষে ইন্ডি সাংসদদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। বাধা পেয়ে কমিশনের উলটো দিকে আকাশবাণী ভবনের সামনে ধরনায় বসেন বিরোধী সাংসদরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান