স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, সেপ্টেম্বর ২৮ : রাজধানীর বুকে একের পর এক গণধর্ষণের ঘটনা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে একাধিক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে দিল্লিতে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে নাবালিকারা নির্যাতিতা। এবার সেই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট । সোমবার দিল্লি পুলিশ এবং দিল্লি সরকারের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালতের মত, দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতি দেখে নির্ভয়া কাণ্ডের সেই যন্ত্রণার কথা মনে পড়ছে। খানিকটা বাধ্য হয়েই ওই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান দিল্লির তুলনা টানতে হচ্ছে বলেই মত শীর্ষ আদালতের।
গত দুই সপ্তাহে দিল্লিতে অন্তত চারটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সেই নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগ নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এদিন বলেছে, “আমজনতার ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকু দিতে ধারাবাহিকভকাবে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন এবং পুলিশ। পার্ক বা বাসের মতো জায়গাগুলিতে আলো নেই, নজরদারি নেই বা প্রশাসনিক সুযোগসুবিধা নেই বলে সেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসাবে দাগিয়ে দেওয়া যায় না। না চাইতেও ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের সঙ্গে তুলনা টানতেই হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিতে।”
দিল্লির পুলিশ এবং সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা, ভয়হীনভাবে বেঁচে থাকা, সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন প্রত্যেক মানুষের অধিকার। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে গ্রেটার নয়ডা থেকে দিল্লিগামী চলন্ত বাসে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়। ওই বাসে সিসিটিভি ছিল না। সেই প্রসঙ্গ তুলেই সুপ্রিম কোর্ট নির্ভয়া কাণ্ড মনে করিয়ে দিয়েছে। কারণ ২০১২ সালে নির্ভয়াও চলন্ত বাসে ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তারপর থেকে বাসে এবং অন্যান্য জায়গায় সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গোটা দেশে হইচই পড়ে যায় কালকাজিতে মন্দির সংলগ্ন পার্কে গণধর্ষণের ঘটনায়। এক নাবালিকা মন্দিরে পুজো দিয়ে ওই পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে পুলিশ সেজে তিন ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। তার কয়েকদিন আগে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুন করে দেহ ফেলে দেয় অভিযুক্তরা। কুকুরে সেই দেহের অনেকাংশ খেয়েও ফেলে। রাজধানীর বুকে পরপর এমন ঘটনায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে নারী নিরাপত্তা নিয়ে। সেই নিয়ে এবার সরব হল শীর্ষ আদালতও।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান