টরন্টো, ৩১ আগস্ট (হি.স.): ঐক্য ও বিশ্বকে সহায়তা করাই ভারতের সংস্কৃতি, কানাডার টরন্টোতে এই বার্তা তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-র সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, "যখন আমি 'হিন্দু' শব্দটি উচ্চারণ করি, তখন একে কোনও নির্দিষ্ট ভাষা, উপাসনা পদ্ধতি অথবা জীবনযাত্রার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এর মধ্যে এসব কিছুই অন্তর্ভুক্ত—এগুলি আসলে মানুষের বৈচিত্র্য। হিন্দুরা সবকিছুর প্রতিই শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি জানায়।"
মোহন ভাগবত বলেন, "বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে কেউ যদি নিগৃহীত হয়েছেন, তবে তিনি একমাত্র ভারতেই আশ্রয় পেয়েছেন। বাইরে থেকে অনেকে আক্রমণকারী হিসেবে ভারতে এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা এখনও নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই সেখানে সমৃদ্ধ জীবনযাপন করছেন। তাঁরা এখন ভারতীয় নাগরিক। সেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিরাও রয়েছেন। অনেকেই আশ্রয়ের সন্ধানে ভারতে আসেন।"
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, সোমবার টরন্টোতে আয়োজিত 'হিন্দু বিশ্ব বন্ধু - বন্ধুত্ব দিয়ে বিশ্বকে আপন করে নেওয়া' শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, "ভারতকে কেউ হয়তো মহাশক্তি বলতে পারেন, কিন্তু আদতে তা এমন ছিল না। ভারত বিশ্বের সেবা করেছে এবং নিজস্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই সে 'বিশ্বগুরু' হয়ে উঠেছে, 'মহাশক্তি' নয়।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষরা মেক্সিকো থেকে সাইবেরিয়া পর্যন্ত ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁরা পায়ে হেঁটে হিমালয় পাড়ি দিয়েছেন, ছোট নৌকায় করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গিয়েছেন, কিন্তু কোনও দেশ জয় করেননি। তাঁরা জ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা ও আয়ুর্বেদ ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং সভ্যতার মূল্যবোধ শিক্ষা দিয়েছেন। আজও যখন কোনও সাধারণ ভারতীয় কোনও দেশে যান, সেখানকার মানুষ তাঁকে নমস্কার জানান।"
মোহন ভাগবত আরও বলেন, "বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে যখনই ভারতের কাছে সাহায্যের আবেদন করা হয়েছে, ভারত কখনোই তা প্রত্যাখ্যান করেনি; এমনকি কোনও অনুরোধ ছাড়াই তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এটাই আমাদের ঐতিহ্য, এটাই ভারতের ডিএনএ। এই কারণেই হয়তো আপনারা সেই প্রবাদটি শুনেছেন—'হিন্দুরা জেগে উঠলে বিশ্বও জেগে ওঠে'। ভারতে বৈচিত্র্য কখনোই ঐক্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না; আমাদের ঐতিহ্য আমাদের শেখায় যে, বৈচিত্র্যের মধ্যে কেবল ঐক্যই নিহিত নয়, বরং বৈচিত্র্য নিজেই ঐক্যের একটি রূপ।"
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান