নয়াদিল্লি, ২১ জুন (হি.স.) : রবিবার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা রি-নিট (নিট -ইউজি ) দিতে বসছেন ২২ লক্ষেরও বেশি মেডিক্যাল পড়ুয়া। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর তা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। সেই প্রেক্ষিতেই রবিবার দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত হবে এই পরীক্ষা। বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময় রেখে পরীক্ষা চলবে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।
পরীক্ষাকে ঘিরে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। দেশের ৫৫১টি শহর এবং বিদেশের ১৪টি কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৫,৪৪০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য প্রতিটি স্তরেই কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এবারের পরীক্ষায় ৯৫ হাজারেরও বেশি কক্ষে বসবেন পরীক্ষার্থীরা। প্রতিটি কক্ষই সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। মোট ১ লক্ষ ৩৮ হাজারের বেশি ক্যামেরার মাধ্যমে জাতীয়, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় স্তর থেকে রিয়েল-টাইম নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি ৫১ হাজারের বেশি সিগন্যাল জ্যামার বসানো হয়েছে, যাতে কোনও ধরনের ইলেকট্রনিক জালিয়াতির সুযোগ না থাকে। প্রশ্নপত্র পরিবহণেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরে ডাক বিভাগ ও ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলি পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে থাকবেন দু’জন করে পরীক্ষা-পরিদর্শক। দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার তল্লাশি কর্মী এবং ৪৮ হাজারের বেশি বায়োমেট্রিক যাচাইকারী। মুখের ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য মিলিয়ে পরীক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবেন একজন করে প্রযুক্তি আধিকারিক, যিনি নজরদারি ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি সঙ্গে সঙ্গে সামাল দেবেন।
পরীক্ষার আগে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে পরীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। দিল্লিতে এনটিএ-র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে।
শনিবার দেশজুড়ে মক ড্রিল চালিয়ে সিসি ক্যামেরা , জ্যামার, বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা, তল্লাশি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এরই মধ্যে নাগপুরের এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাঁর প্রবেশপত্রে ভুলবশত আবু ধাবির একটি পরীক্ষাকেন্দ্র উল্লেখ করা হয়েছিল। তদন্তের পর এনটিএ জানায়, পরে সেটি সংশোধন করে নাগপুরের কেন্দ্র বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনও পরীক্ষার্থী যাতে পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে বলেও সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এনটিএ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুজব বা প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ভুয়ো প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের তথ্যের উপর ভরসা রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
৩ মে-র বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর রবিবারের এই রি-নিটকে ঘিরে গোটা দেশের নজর। এই পরীক্ষা শুধু লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, দেশের মেডিক্যাল ভর্তি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

