রোম/আঙ্কারা, ২১ জুন (হি.স.) : জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যেই মুখোমুখি হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একে অপরকে লক্ষ্য করে করা মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে ট্রাম্প দাবি করেছেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি একাধিকবার তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ইতালিতে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় মেলোনি রাজনৈতিকভাবে সেই ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিতে চাইছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ইতালি তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। কিন্তু অভিযানের পর পরিস্থিতি বদলাতেই রোম আবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে।
এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তাঁর কথায়, ইতালির জনগণের সমর্থন তিনি অর্জন করেছেন দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, কোনও বিদেশি নেতার সঙ্গে ছবি তুলে নয়।
তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইতালিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলির ব্যবহার কেবল দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় সম্ভব। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
ট্রাম্প পরে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারেও একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন।
জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, মিত্র দেশের নেতাদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দেয় না।
এরই মধ্যে ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর নির্ধারিত মার্কিন সফর স্থগিত করেছেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া অস্বস্তিরই ইঙ্গিত।
উল্লেখ্য, বেশ কিছু সময় আগেও ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু ইরান নীতি, সামরিক সহযোগিতা এবং সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য—এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সেই সম্পর্কেই এখন স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে।

