স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ২৪ অগস্ট : এবার কি জলপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টা পাকিস্তানের! রবিবার বিএসএফ ও ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী যৌথ অভিযানে ১৫ জন পাকিস্তানি জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের ইঞ্জিনচালিত নৌকাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বিএসএফের গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়েই শনিবার কোরি খাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলের ভারত-পাকিস্তান সমুদ্র সীমান্তের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে বলেই যানা যাচ্ছে। বিএসএফ এবং ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর এই যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সেনাকর্তা অশোক কুমার, অমিত কুমার, অনুরাগ গর্গ ও এস কুমার। সঙ্গে ছিলেন আরও আটজন বিএসএফ জওয়ান ও জলসেনা বাহিনীর তিনজন সদস্য।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে অভিযানকারী দল সকালে লাক্কি নালা জেটি থেকে একটি জাহাজে রওনা হয়ে এলাকায় পৌঁছয়। অভিযান চালিয়ে ১৫ জন পাকিস্তানি নাগরিককে গুজরাট সমুদ্র সীমান্তে ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। ইতিমধ্যেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়ে গিয়েছে। অভিযুক্তরা নিজেদের জেলে বলেই পরিচয় দেয় বলেই জানা যাচ্ছে। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৫০-এর মধ্যে। তাঁদের ইঞ্জিনচালিত দেশি নৌকাটিকেও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নৌকা থেকে প্রায় ৬০ কেজি মাছ ও নয়টি বড় জাল উদ্ধার করেছেন অভিযানকারীরা। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে রসদ ও জ্বালানিরও সন্ধান মিলেছে ওই নৌকা থেকে। যা থেকে সেনাকর্তারা মনে করছেন অনেকদিন ধরেই নৌকাটি ভারতীয় জলসীমায় ঘোরাঘুরি করছিল। ধৃত পাকিস্তানিদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং ২০০ টাকার মতো পাকিস্তানি মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের জন্য সবকিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে বারবার সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে চলেছে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা। সপ্তাহখানেক আগেই উরি সেক্টরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে জঙ্গিরা। যদিও তৎপরতার সঙ্গে সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় জওয়ানরা। তারপর থেকেই সীমান্ত বরাবর জুড়ে কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে সেনা। গুজরাটের সীমান্তে পাক জেলে অনুপ্রবেশের ঘটনা তা ফের প্রমাণ করে দিল। এই পাক জেলেরা কী উদ্দেশ্য নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশ করেছিল তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তদন্তও শুরু হয়েছে।

