স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৬ অক্টোবর : মাঝআকাশে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বায়ুসেনার বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল প্রত্যেক যাত্রী এবং বিমানকর্মীর। এমনই ভয়ংকরভাবে বিমানটি ভেঙে পড়েছে যে মৃতদেহগুলিও টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। নাইজেরিয়ার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু। দেশের বায়ুসেনাকে নির্দেশ দিয়েছেন এই ঘটনার তদন্ত করতে।
ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ন’টা নাগাদ। বেনিন সিটি থেকে লাগোসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল নাইজেরিয়া বায়ুসেনার এটিআর ৪২ বিমানটি। সেখানে ছিলেন ২৫ জন যাত্রী এবং সাত বিমানকর্মী। আকাশে ওড়ার পর খানিকক্ষণ পর্যন্ত সব স্বাভাবিকই ছিল। আচমকাই বিমানের সঙ্গে এটিসির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, বিমানটি ভেঙে পড়েছে ইগবোকোডা শহরে। সমুদ্র সংলগ্ন এলাকার এই শহরে রয়েছে নয়াইজেরীয় নৌসেনার একটি ঘাঁটি।
স্থানীয়রা জানান, আচমকাই প্রবল বাজ পড়ার মতো বিকট শব্দ পান তাঁরা। ছুটে গিয়ে দেখেন, ভেঙে পড়ে রয়েছে বিমানটি। একটা বড় এলাকাজুড়ে বিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, বিমানে থাকা যাত্রীদের মৃতদেহগুলিও ক্র্যাশের তীব্রতায় টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। তাঁদের জুতো-পোশাকও ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে আশেপাশে। ঘটনার খবর পেয়েই উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। তবে কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু জানান, বিমানে থাকা যাত্রী এবং বিমানকর্মী কেউই আর জীবিত নেই। কিন্তু কী করে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন বোলা। প্রেসিডেন্টের নির্দেশমতো তদন্ত শুরু করেছে বায়ুসেনা। জানা গিয়েছে, বিমানের একটা অংশ ভেঙে পড়েছিল নদীতে। ডুবে থাকা সেই অংশও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, নাইজেরিয়ায় একাধিক বিমান ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ইতিহাস রয়েছে। তবে গত ১৪ বছর সেভাবে বিমান দুর্ঘটনা হয়নি আফ্রিকার দেশটিতে। সোমবার বায়ুসেনার বিমান ভেঙে নতুন করে ক্ষত তৈরি হল নাইজেরিয়ার বুকে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান