স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৭ অক্টোবর : প্রেমের শহর প্যারিস আজ ‘প্রেমহীন’। শহরের রাজপথে এখন শুধুই বিক্ষোভ আর উত্তেজনা।স্কুলের শ্রেণিকক্ষের জরাজীর্ণ অবস্থা, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া। মঙ্গলবার থেকেই সেই বিক্ষোভের ঝাঁজ আরও বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ৫০০ প্রতিবাদীকে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করছে পুলিশ।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি হাই স্কুলে শিক্ষক-সংকটের জেরে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তা দেশের অধিকাংশ স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্সের অন্তত ৪০টি শহর। ২ সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনের জেরে রাজপথে নেমে এসেছে প্রায় ৩ লক্ষ পড়ুয়া। ফ্রান্স সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভের জেরে কমপক্ষে দেশের ৯০০টি স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে কিছু কিছু জায়গায় তা হিংসায় পরিণত হয়। অভিযোগ, প্রতিবাদের নামে ভাঙচুর চালান বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজপথে নামে পুলিশের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী। তারপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাচ্ছে পুলিশ। ছোড়া হচ্ছে জলকামানও। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত আহত হয়েছেন ২১৫ জন পড়ুয়া, ৮৫ জন স্কুলকর্মী এবং ৪৩ পুলিশকর্মী। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এই বিক্ষোভকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে স্কুল ব্যবস্থার উপর সবচেয়ে বড় আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর সাফ কথা, দেশে হিংসার কোনও স্থান নেই।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান