স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, অক্টোবর ১ : স্বভাবে ছিলেন অত্যন্ত উগ্র। মহিলাদের সঙ্গে করমর্দনেও আপত্তি ছিল তাঁর। ইজরায়েলগামী বিমানের ককপিটে হামলাকারী ওমানি সহ-পাইলট সম্পর্কে এমনই তথ্য জানা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শিক্ষার আলো ভেদ করে তাঁর মনে প্রবেশ করে গিয়েছিল জেহাদের ‘বিষ’। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর মগজধোলাই করা হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ বিমান ধ্বংস করতে পিছপা হননি ওমানি পাইলট। যদিও আসল কারণ এখনও জানা যায়নি।
বুধবার সকালে ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি (Flydubai Flight) দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। চালকের আসনে ছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। অভিযোগ, ককপিটের ভিতর তাঁর উপর আচমকা হামলা চালান সহ-পাইলট। ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় তাঁকে। প্রায় দু’মিনিটে ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে আসে বিমানটি। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা অন্যান্য পাইলট এবং বিমানকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ককপিট। গুরুতর আহত অবস্থায় পড়েছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কিন্তু উড়ানটি নিরাপদে সৌদির উত্তর-পশ্চিমে, তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইতে তিনি এক বছরেরও কম সময় ধরে কর্মরত ছিলেন। তবে তাঁর পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এর আগে কোথায় তিনি কর্মরত ছিলেন, তা-ও জানা যায়নি। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম কয়েকটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ওমানি সহ-পাইলট কট্টরপন্থী ছিলেন। নিয়মিত তিনি প্রার্থনা করতেন। শুধু তাই নয়, মহিলাদের সঙ্গে করমর্দনেও অস্বীকার করতেন তিনি। তাঁর এক সহকর্মীর দাবি, ওমানি পাইলট কঠোর ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’ তাঁকে ‘ধর্মীয় উগ্রবাদী’ হিসাবে অভিহিত করেছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে গোটা ঘটনার তদন্ত।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান