স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
২৭ আগস্ট :বিদ্যুৎ মাশুল,
পাইপলাইন গ্যাসের মাশুল এবং পেট্রোল ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের বাজারগুলির
মধ্যে দ্রব্যমূল্য লাগাম ছাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। চাল, চিনি, পেঁয়াজ, রান্নার তেল থেকে
শুরু করে বিভিন্ন সামগ্রীর মূল্য নিম্ন, মধ্যবিত্তের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
বিশেষ করে আগরতলা শহরের মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে গোটা রাজ্যের বাজার গুলিতে
প্রভাব পড়ছে।
চাল প্রতি কিলোতে
১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পেঁয়াজ ৬০ টাকা কিলো, চিনি ষাট টাকা কিলো। এছাড়াও
অন্যান্য সামগ্রীমূল্য লাগামহীন বৃদ্ধি হয়েছে। অথচ, সরকার এবং প্রশাসনের কোনোরকম কড়া
ভূমিকা নেই। বৃহস্পতিবার ঘুম ভাঙলো উদয়পুর মহকুমা প্রশাসনের! এদিন সকাল থেকে উদয়পুর
শহরের বিভিন্ন দোকানপাটে অভিযান চালিয়ে প্রশাসনিক কর্মীদের চক্ষু চড়ক গাছ। সাধারণ
মানুষের স্বার্থে খাদ্য সামগ্রীর গুণগত মান বজায় রাখা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে
রাখতে বৃহস্পতিবার উদয়পুর শহরের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালায় প্রশাসন। এদিন উদয়পুর
মহকুমা শাসকের নির্দেশে খাদ্য দপ্তর, লিগ্যাল মেট্রোলজি ডিপার্টমেন্ট, ফুড সেফটি ডিপার্টমেন্ট
এবং উদয়পুর পৌর পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়।
এদিন উদয়পুর
চকবাজারের বিভিন্ন খুচরো ও পাইকারি দোকানে আধিকারিকরা অভিযান চালায়। অভিযানের সময়
বেশ কয়েকটি দোকানে খাদ্য সামগ্রীর মেয়াদ, প্যাকেটের গায়ে উল্লেখিত মূল্য এবং পণ্যের
গুণগত মান খতিয়ে দেখা হয়। অভিযান চলাকালীন বেশ কয়েকটি দোকান থেকে প্যাকেটজাত বেশ
কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে সেগুলি
বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে কিছু ব্যবসায়ী নির্ধারিত
মূল্যের তুলনায় বেশি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া
যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে
রাখতে এবং নিয়ম ভঙ্গকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খাদ্য
দপ্তরের আধিকারিক দেবজ্যোতি চক্রবর্তী জানান, উদয়পুর শহর সহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে
নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। যেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে, সেখানেই কোনো না কোনোভাবে
মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার উদ্ধার হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্কবার্তা
দিয়ে বলেন, দোকানে বিক্রির জন্য রাখা সমস্ত খাদ্য সামগ্রীর মেয়াদ এবং গুণগত মান সম্পর্কে
ব্যবসায়ীদের সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান,
বৃহস্পতিবার উদয়পুর চকবাজারে যেসব দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য সামগ্রী পাওয়া গেছে
এবং যেসব দোকানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে
একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে উদয়পুর মহকুমা শাসকের কাছে পাঠানো হবে। এরপর মহকুমা
শাসক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ
করতে অবিলম্বে প্রশাসনকে কড়া চোখ রাঙানো প্রয়োজন। অধিকাংশ বাজারে দেখা যায় পাইকারি
মূল্যের সঙ্গে রাতদিন ফারাক খুচরো মূল্যের। কারা এভাবে মানুষের পকেট কাটার জন্য মর্জিমাফিক
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করছে তা যাচাই করা প্রয়োজন। নাহলে সাধারণ মানুষের উপর বিশাল প্রভাব
পড়ছে বলে মনে করছে সচেতন নাগরিক মহল।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান