স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর : ২৬ আগস্ট, ২০২৬। নেপালের বিপর্যয়ে নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। হাজারে হাজারে মৃত্যুমিছিল। মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে বাসিন্দা থেকে পর্যটকদের। সেই বিভীষিকার রেশ কাটার আগেই ফের প্রকৃতির রোষে প্রতিবেশী দেশ। রবিবার সকালে তুষারধসে তছনছ তিব্বত সীমান্ত। নেপালের সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, অন্তত ১০ জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের মধ্যে অনেকেই ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
নেপাল ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ মানাং জেলার হিমলাং হিমল শৃঙ্গ। যার উচ্চতা ৭ হাজার ১২৬ মিটার। রবিবার সকালে আচমকাই বেস ক্যাম্পের কাছে তুষার ধস নামে। তারপর থেকে ১০ জনের খোঁজ মিলছে না। মানাঙের পরিস্থিতি উপর নজর রাখছে নেপাল সরকার। সে দেশের পর্যটন বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। ঠিক কোথায় পর্বতারোহীরা আটকে আছেন, তা এখনও খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। জানা গিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।
ভৌগলিক অবস্থানের ভিত্তিতে হিমলাং হিমল অত্যন্ত দুর্গম ও বিপজ্জনক। সেখানে ট্র্যাকিংয়ের বাইরে হেলিকপ্টার যাত্রার জন্য বাধ্যতামূলক অনুমতি নিয়ে হয়। সেই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে শুক্রবার থেকেই তিব্বত সীমান্ত বরাবর পর্বতমালায় প্রবল তুষারপাত ও টানা বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়ার অবনতি কারনে ধস নেমে নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ। প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের উদ্দেশে বিশেষ রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
ট্রেকিংয়ের অন্যতম এক আয়োজক মিংমা গিয়ালজে শেরপা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে এখানে দুর্যোগের পূর্বাভাস ছিল। তখনই পর্বতারোহী দলগুলিকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও স্বেচ্ছায় কয়েকজন থেকে যান। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁদেরই অনেকে নিখোঁজ। গত মাসেই নেপালের ভেটকোশী নদীপ বিধ্বংসী হড়পা বানে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া জনপদ। সরকারি হিসেবে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৫০০-রও বেশি। প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের খোঁজ মেলেনি এখনও। সেই ঘটনার এক মাসের মাথায় ফের প্রকৃতির রোষানলে নেপাল।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান