স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
৩ অক্টোবর : কোরোগি স্পোর্টস পার্ক, শনিবার: রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে
পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে পুরুষ ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল
ভারত। ভারতের জয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা ও তিলক ভার্মা। পাশাপাশি বল হাতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর প্যাটেল ও শিবম দুবে।
প্রথমে ব্যাট
করে ভারত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১১ রান তোলে। মাত্র ২৮ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন
অভিষেক শর্মা। অন্যদিকে ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করে ভারতকে বড় রানে পৌঁছে দেন তিলক ভার্মা।
শেষদিকে শিবম দুবের সঙ্গে তিলকের ঝোড়ো জুটি ভারতের স্কোরকে ২০০-র গণ্ডি পার করে দেয়।
জবাবে পাকিস্তানও
সহজে হার মানেনি। হাসান নওয়াজের দুর্দান্ত ৫১ বলে ৯৬ রানের ইনিংসে ম্যাচের উত্তেজনা
শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল। তবে ভারতের স্পিনার ও অলরাউন্ডাররা চাপের মুখে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ
দেখান। ইনিংসের শেষ বলে হাসান নওয়াজকে আউট করেন শিবম দুবে। ফলে পাকিস্তানের ইনিংস থামে
১৯২ রানে। ভারত জয় পায় ১৯ রানে।
টস জিতে প্রথমে
ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। শুরুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে
খেলতে থাকে ভারত। ১৫ বছর বয়সি বাঁহাতি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী ৯ বলে ১৫ রান করেন, যার
মধ্যে ছিল দুটি ছক্কা। তবে দ্বিতীয় ওভারেই সাইম আয়ুবের বলে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। সঞ্জু
স্যামসনও ৬ বলে ৪ রান করে আহমেদ দানিয়ালের বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।
দুই উইকেট দ্রুত
পড়ে গেলেও অভিষেক শর্মার ব্যাটিংয়ে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। পাওয়ারপ্লেতে বিধ্বংসী ব্যাটিং
করে মাত্র ২০ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। প্রথম ছয় ওভারেই ভারত ২ উইকেটে ৮১ রান
তুলে নেয়। পাকিস্তানের ফিল্ডিংও তাদের বিপদ বাড়ায়। একই ওভারে সাইম আয়ুব দু’টি ক্যাচ
মিস করেন। অভিষেককে রান আউট করার সুযোগও নষ্ট করে পাকিস্তান।
শেষ পর্যন্ত
আরাফাত মিনহাসের বলে আউট হন অভিষেক। তাঁর ২৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও সাতটি
ছক্কা। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২১৭.৮৫। এরপর ইশান কিষাণ ১৮ বলে ২০ এবং শ্রেয়স আইয়ার
২৪ বলে ২১ রান করে ফিরে যান।
তবে ১৬.৪ ওভারেই
১৫০ রান পার করে ভারত। শেষদিকে ঝড় তোলেন তিলক ভার্মা ও শিবম দুবে। ষষ্ঠ উইকেটে দু’জনে
মিলে ৬২ রান যোগ করেন।
১৭তম ওভারে
আবরার আহমেদের কাছ থেকে ১২ রান, ১৮তম ওভারে সুফিয়ান মুকিমের কাছ থেকে ১৮ রান এবং ১৯তম
ওভারে সাইম আয়ুবের ওভার থেকে ২৩ রান তুলে নেন তিলক ও দুবে। শেষ ওভারের প্রথম বলেই আহমেদ
দানিয়াল শিবম দুবেকে ১৫ বলে ২৭ রানে ফিরিয়ে দেন। তবে ততক্ষণে ভারতের বড় রান নিশ্চিত
হয়ে গিয়েছে।
তিলক ২২ বলে
৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ২৩১.৮১।
শেষ বলে অক্ষর প্যাটেলের নেওয়া সিঙ্গেলে ভারত ২১১ রানে পৌঁছে যায়।
তিলক মাত্র
২১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন, যা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের দ্বিতীয় দ্রুততম টি-২০
আন্তর্জাতিক অর্ধশতরান। এদিনই ২০ বলে অর্ধশতরান করে তাঁর আগে রয়েছেন অভিষেক শর্মা।
তিলক ও দুবের
৬২ রানের জুটি পাঁচ বা তার বেশি দলের টি-২০ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে ষষ্ঠ
উইকেট বা তার নিচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ২০০৯ টি-২০ বিশ্বকাপ
ফাইনালে লর্ডসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কুমার সাঙ্গাকারা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজের ৬৮
রানের অপরাজিত জুটি।
ভারতের ২১১/৬
স্কোরও একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। পাঁচ বা তার বেশি দলের টি-২০ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের
ফাইনালে কোনও পূর্ণ সদস্য দেশের ২০০-র বেশি রান করার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ২০২৬
টি-২০ বিশ্বকাপের আহমেদাবাদ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত ২৫৫/৫ রান করেছিল।
অভিষেকের সাতটি
ছক্কাও তাঁকে টি-২০ আন্তর্জাতিক ফাইনালে ভারতের হয়ে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানো ব্যাটারদের
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে তুলে দিয়েছে। ২০২৬ সালে আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে
ফাইনালে সঞ্জু স্যামসন আটটি ছক্কা মেরেছিলেন।
তিলকের চারটি
ছক্কা তাঁকে বিরাট কোহলি, অক্ষর প্যাটেল ও ইশান কিষাণের সঙ্গে টি-২০ আন্তর্জাতিক ফাইনালে
ভারতের হয়ে চার বা তার বেশি ছক্কা হাঁকানো ব্যাটারদের তালিকায় নিয়ে এসেছে।
২১২ রানের লক্ষ্যে
ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা ধীরে-সুস্থে করলেও ভারতের বোলাররা নিয়মিত ব্যবধানে
উইকেট তুলে নিতে থাকেন। তবে হাসান নওয়াজ পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে
আনেন। ৫১ বলে ৯৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখান।
ম্যাচের শেষদিকে
চাপ বাড়তেই ভারতের অলরাউন্ডার ও স্পিনাররা নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দেন। ওয়াশিংটন
সুন্দর ও অক্ষর প্যাটেল মাঝের ওভারগুলিতে দুর্দান্ত বোলিং করে পাকিস্তানকে বড় জুটি
গড়তে দেননি। ওয়াশিংটন ও অক্ষর দু’জনেই দুটি করে উইকেট নেন। আর শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ
সময়ে বল হাতে এসে হাসান নওয়াজকে ফিরিয়ে দেন শিবম দুবে। শেষ বলেই নওয়াজের উইকেট নিয়ে
ভারতের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত
স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২১১/৬ — অভিষেক শর্মা ৬১, তিলক ভার্মা অপরাজিত ৫১; আরাফাত মিনহাস
২/২৫, আহমেদ দানিয়াল ২/৪৩।
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯২/৬ — হাসান নওয়াজ ৯৬, সাইম আয়ুব ২৯; ওয়াশিংটন সুন্দর
২/২৯, অক্ষর প্যাটেল ২/২৯।
ফলাফল: ভারত
১৯ রানে জয়ী।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান