স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর : নির্বাচন প্রক্রিয়াকে যদি ত্রুটিপূর্ণ ও কারচুপিযুক্ত বলে মনে হয়ে থাকে, তাহলে সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন কেন? সিস্টেম বদলাতে চাইলে ভোটপ্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকুন। দেশের বিরোধী দলগুলিকে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে । তাঁর সাফ কথা, ‘হ্যাঁ, এ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপি হচ্ছে। কিন্তু আপনারা লাগাতার এই নির্বাচনগুলিতে অংশ নিয়ে সেগুলিকে বৈধতা দিয়ে দিচ্ছেন।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি রীতিমতো ‘গেল গেল’ রব তুলে পথে নেমে পড়েছে। কেউ বলছেন, বাংলা, বিহার-সহ একাধিক রাজ্যে পুনর্নির্বাচন করতে হবে, কেউ বলছেন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই, কেউ বা বলছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনও বিরোধী দলই বলেনি, জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে সেটা সুষ্ঠু নয়, কারচুপি যুক্ত। তাই এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আমরা অংশগ্রহণ করব না। বিরোধীদের এই অবস্থানকে দ্বিচারিতা বলে মনে করছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর বক্তব্য, “আপনারা যে খেলাটাকে অবৈধ বলে দাবি করছেন, সেই খেলাতেই অংশ নিচ্ছেন। এতে তো খেলাটাই বৈধতা পাচ্ছে।”
এক্স হ্যান্ডেলে দীপকে বললেন, “আপনারা যদি কারচুপির নির্বাচনে অংশ নেন তাহলে নির্বাচন অবাধ এবং স্বচ্ছ এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়।” সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলি ভোটে অংশ নিচ্ছে শুধু নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ভোটে অংশ নিচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “যে সিস্টেমে ভোট চুরি হয়ে যাচ্ছে, আপনাদের বিধায়ক-সাংসদদের ভাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে, দল ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, তখন কোন অস্তিত্ব বাঁচানোর চেষ্টা করছেন?” তাঁর সাফ কথা, “যে সিস্টেম আপনাদের দুর্বল করে, দল ভেঙে দেয়, সাংসদ-বিধায়কদের ভাঙিয়ে নেয়, সেই ব্যবস্থা এই ভাবে কত দিন টিকে থাকা সম্ভব?”
দীপকের এই চ্যালেঞ্জ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিন আগেই ককরোচ জনতা পার্টি জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে। সাফ বলে দেওয়া হয়েছে, ওই সময়সীমার মধ্যে ইস্তফা না দিলে ফের আন্দোলনে বসবেন তাঁরা। কিন্তু সে তুলনায় রাহুল গান্ধী অনেক নরম। তিনি আক্রমণ করছেন মোদি-শাহকে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বটে তবে জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবি ততটা জোর দিয়ে করছেন না। বরং তিনি চান জ্ঞানেশ কুমারকে রাজসাক্ষী করতে। এই পরিস্থিতিতে দীপকের এই মন্তব্য বিরোধীদের উপরও চাপ বাড়ালো।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান