Wednesday, October 14, 2026
বাড়ি রাজ্য ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ কেবলের পরিধি বেড়ে ৪১১ কিলোমিটার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ: রতন লাল নাথ

ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ কেবলের পরিধি বেড়ে ৪১১ কিলোমিটার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ: রতন লাল নাথ

ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ কেবলের পরিধি বেড়ে ৪১১ কিলোমিটার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ: রতন লাল নাথ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা।  ১৪ অক্টোবর :  ত্রিপুরার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে রাজ্যের প্রত্যন্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।

আজ দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম ও শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত সাতচাঁদে এলাকায় ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি এ কথা বলেন। দুর্গাপুজোর আগেই যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ এই প্রকল্পগুলির সুফল পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

সাতচাঁদে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, প্রায় ৪৭ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ৬৬ কেভি থেকে বাড়িয়ে ১৩২ কেভিতে উন্নীত করা হচ্ছে। এর ফলে সাতচাঁদ ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সঞ্চালন ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে। উপকেন্দ্রের উপরতলায় একটি কন্ট্রোল রুমও স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে বগাফায় ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন গড়ে তোলার কাজ চলছে।

মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাতচাঁদ এলাকার প্রায় ১৬ হাজার ১৫০টি পরিবার উপকৃত হবে। সাচন্দ, মনুবাজার, শাকবাড়ি, মগুরছড়া, কালাছড়া, দুরাথলি, সিন্দুকপাথর, রাজীবনগর ও শ্রীনগর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

অন্যদিকে, সাব্রুমে প্রায় ৬৬ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাব্রুম, মুস্তাফাপুর, মনুঘাট, হরিণা, ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট, লুধুয়া  ও রুপাইছড়ি -সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮টি পরিবার উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সাব্রুম ও সাতচাঁদ এলাকায় বিদ্যুৎ বিল আদায়ের নিম্নহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। দফতরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, সাব্রুমে মোট ১৭ হাজার ৮৫ জন বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৮৮৬ জন নিয়মিত বিল পরিশোধ করেন। বাকি ১১ হাজার ১৯৯ জন গ্রাহকের বিল বকেয়া রয়েছে। একইভাবে, সাতচাঁদ মোট ১৪ হাজার ১৬৮ জন গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ১০৩ জন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। ফলে সেখানে ১০ হাজারেরও বেশি গ্রাহকের বিল বকেয়া রয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিল আদায়ের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও রাজ্য সরকার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পরিষেবা ছাড়া আধুনিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন পরিষেবা ও শিল্পক্ষেত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে রতনলাল নাথ জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ত্রিপুরায় ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১২টি। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১টি। একইভাবে, ৩৩ কেভি উপকেন্দ্রের সংখ্যা ৪৪ থেকে বেড়ে ৭৫ হয়েছে। পাশাপাশি, আরও নতুন উপকেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, রাজ্যে ২৭২ কিলোমিটার রেলপথে বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন করেছে বিদ্যুৎ দফতর। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে ভূগর্ভস্থ কেবল বসানোর কাজও উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আগে যেখানে ভূগর্ভস্থ কেবলের পরিধি ছিল ৯৫ কিলোমিটার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১১ কিলোমিটারে।

এছাড়াও, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং পরিষেবা সচল রাখতে বিপুল সংখ্যায় কভার্ড কন্ডাক্টর বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ১৪ হাজার ৮২০ সার্কিট কিলোমিটার কভার্ড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যন্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সুফল পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha